সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Tooth-Decay.jpg

মুখস্বাস্থ্য দন্তক্ষয়ের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

দন্তক্ষয় হলে দাঁত ব্যথা করে, খাবার খেতে অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ হয়। আবার সামনের দাঁতের ক্ষয় হলেতো মুখসৌন্দর্যই ম্নান হয়ে যায়!

মুখস্বাস্থ্য সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসুরক্ষার নির্দেশক। আজ মুখস্বাস্থ্যের একটি সাধারণ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছি। এটি হচ্ছে দন্তক্ষয়। একটু সচেতন থাকলেই আমরা এই সমস্যা থেকে বাঁচতে পারি।

দন্তক্ষয়: আমাদের দাঁত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য খনিজ পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত হয়। মানব শরীরের সবচেয়ে শক্ত অংশ হচ্চে দাঁত। কিন্তু অবহেলা আর অসচেতনতাহেতু এই দাঁত ক্ষয়ে যায়!

দন্তক্ষয় হলে দাঁত ব্যথা করে, খাবার খেতে অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ হয়। আবার সামনের দাঁতের ক্ষয় হলেতো মুখসৌন্দর্যই ম্নান হয়ে যায়!

তো আসুন, দন্তক্ষয়ের কারণ ও তা থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে কিছু জানা যাক:

দন্তক্ষয়ের কারণ: দন্তক্ষয়ের তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে:

  • খাদ্য ও পানীয়: কার্বোহাইড্রেট অথবা অধিক চিনিযুক্ত খাবারগুলো দন্তক্ষয়ের হুমকি বাড়িয়ে দেয়। আবার আঠালো খাবার, টফি, মিঠাই, পটেটো চিপস ইত্যাদি দন্তক্ষয়ের মাত্রা অনেক বৃদ্ধি করে।
  • দাঁত পরিষ্কার: প্রতিদিন দাঁত পরিষ্কার না করলেও দাঁত ক্ষয় হয়। রোজ দুইবার দাঁত পরিষ্কার করতে হয়। এতে মুখে থাকা ব্যকটেরিয়ার আক্রমণ কম হয়, ব্যাকটেরিয়া ও দাঁতের ফাঁকে থাকা খাদ্যকণা বের হয়ে যায়। দাঁত পরিষ্কারের জন্য চিকিৎসকরা সঠিকভাবে ব্রাশ করা, ফ্লস করা এবং মাউথওয়াশ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
  • মুখগহ্বরে থাকা ব্যাকটেরিয়া: যখন আমরা খাবার গ্রহণ বন্ধ করি তখনই ব্যাকটেরিয়া তার কাজ শুরু করে। দাঁতের উপর বিশেষত গোড়ার দিকে সাদা পরত তৈরি করে। যাকে প্লাক বলে। প্লাক ব্যাকটেরিয়ার আবাস! এই আবাস যাতে না হয় সেজন্য দু’বার ব্রাশ করতে হবে। মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া এসিড তৈরির জন্য শর্করা ও চিনি খুবই জরুরি। এগুলোই দন্তক্ষয়ে দায়ী।

দন্তক্ষয়ের লক্ষণ: দন্তক্ষয়ের প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে দন্তপৃষ্ঠে (এনামেল) বাদামী দাগ পড়া। এই দাগ বাড়তে থাকে এবং গর্ত হয়। গর্তে খাদ্যদ্রব্য আঁটকে যায়। খাবার আঁটকার পর ক্ষয় প্রক্রিয়া দ্রুত হতে থাকে। গর্ত বড় হয়ে যায়। যখন গর্ত কিছুটা গভীর হয়ে অভ্যন্তরীণ (ডেন্টিন) পর্যন্ত  পৌঁছায় তখন ঠাণ্ডা বা মিষ্টির প্রতি কনকন বা শিরশির অনুভূতি জন্মে। যখন এরচেয়েও গভীরে প্রবেশ করে (দাঁতের নার্ভ বা স্নায়ু পর্যন্ত) এবং সংক্রমণ ঘটায় তখন তীব্র ব্যথা করে।

দন্তক্ষয় প্রতিরোধ: দন্তক্ষয় প্রতিরোধে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে:

  • প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর দাঁতের চিকিৎসকের কাছে দাঁত পরীক্ষা করাতে হবে।
  • প্রত্যহ সকালে তাড়াতাড়ি উঠে দৈনন্দিন কর্মে সময় দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁত ব্রাশ করবেন। এতে সঠিকভাবে দাঁত পরিষ্কার হল কিনা তা বোঝা যাবে।
  • প্রত্যহ দু’বার অর্থাৎ সকাল ও রাতে দাঁত পরিষ্কার করতে হবে।
  • খুব জোড়ে জোড়ে ব্রাশ ও ২ মিনিটের বেশি ব্রাশ করা যাবে না। ব্রাশ করার সঠিক নিয়ম শিখতে হবে।
  • মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে হবে।
  • রাতে শোয়ার পূর্বে একবার দাঁত ফ্লশ করতে হবে।
  • মিষ্টি খাবার, আঠালো খাবার কম খেতে হবে।
  • কেক, পেস্ট্রি, টফি, চিপস কম খেতে হবে। ফাইবার বা আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • সোডাযুক্ত কোমল পানীয় পান থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • বিড়ি, সিগারেট ও তামাকের নেশা ছাড়তে হবে।

চিকিৎসা:

  • দাঁতক্ষয়ের সূচনা হলে প্রথম কাজ হবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া।
  • যদি গর্ত ছোট হয় তবে পরিষ্কার করে ফিলিং করে দিবে।
  • যদি ক্ষয়ের কারণে অনেক বেশি ক্ষতি হয়, ব্যথা করে তবে দন্তচিকিৎসক এক্স-রে এর পরামর্শ দিতে পারেন। অতঃপর চিকিৎসা সম্পর্কে বলতে পারেন।
  • বেশি ক্ষয় হলে রুট ক্যানেল করা লাগতে পারে এবং দাঁতে ক্যাপ লাগাতে পারে।
  • খুব বেশি ক্ষয় হলে দাঁত তুলে সেই স্থানে কৃত্রিম দাঁত লাগিয়ে দেয়।

যেকোন ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ব্যবস্থাই উত্তম। দন্তক্ষয়ের ক্ষেত্রে তা আরো বেশি জরুরি। তাই সবচেয়ে ভাল সঠিকভাবে দাঁতের যত্ন নেয়া যাতে চিকিৎসার প্রয়োজন না পড়ে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।