সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

সুস্থ থাকুন কৃমি মুক্ত থাকার ঘরোয়া উপায়

এটি শিশুদের একটি সাধারণ সমস্যা। তবে বড়রাও এ থেকে মুক্ত নন। অপরিষ্কার বা অস্বাস্থ্যকর খাবার, অল্প সিদ্ধ খাবার, পানি ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ায়।

কৃমি অন্ত্রে বাসকারী এক ধরনের পরজীবী যা ডিম্বাণু হিসেবে মুখের মাধ্যমে ও লার্ভা হিসেবে ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। কৃমি অন্ত্র ছাড়াও লিভার ও অন্যান্য অঙ্গকেও আক্রমণ করতে পারে।

এটি শিশুদের একটি সাধারণ সমস্যা। তবে বড়রাও এ থেকে মুক্ত নন। অপরিষ্কার বা অস্বাস্থ্যকর খাবার, অল্প সিদ্ধ খাবার, পানি ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ায়। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাবার প্রস্তুত করা কৃমিকে প্রতিরোধের উত্তম উপায়। তাছাড়া আমাদের আশপাশে প্রাপ্ত ফলমূল, শাকসবজি আছে যেগুলো কৃমি মুক্ত রাখতে সক্ষম! এখন এমনই কিছুর পরিচয় দিচ্ছি:

  • গাজর: গাজরে ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিন এবং ভিটামিন-এ থাকে। এরা কৃমির জীবন ব্যহত করে। ভিটামিন-এ কৃমির ডিম নষ্ট করে। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ফলে শরীর পরজীবীর বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি অর্জন করে।
  • নারিকেল: কৃমি ধ্বংসে এটি খুবই কার্যকরী। প্রতিদিন সকালে অল্প পরিমাণ নারিকেলের ঘন জুস খেলে এন্টি-অক্সিডেন্ট এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যা অন্ত্রের কৃমি ধ্বংস করে।
  • নিম: নিমের ঔষধি গুণ কমবেশি সবারই জানা আছে। নিমপাতা পরজীবীর বিরুদ্ধে খুবই কার্যকরী। তাছাড়া নিম শরীর থেকে টক্সিন দূর করে।
  • রসুন: রসুনে প্রচুর সালফিউরিক উপাদান থাকে যা কৃমির পক্ষে খুবই অপ্রীতিকর। রান্নায় রসুন ব্যবহার করলে কৃমির প্রভাব কম হয়।
  • পেঁপে: রোগ প্রতিরোধে শত শত বছর ধরে পেঁপের ব্যবহার হচ্ছে। কাঁচা পেঁপেতে প্রাপ্ত প্যাপেইন (Papain) নামক এনজাইমের কৃমি বিনাশকারী ক্ষমতা আছে।
  • কুমড়া বীজ: কুমড়া বীজের রাসায়নিক উপাদান কিউকারবিটাসিন (Cucurbitacin), যা কৃমির প্যারালাইসিস করে। অতঃপর সেগুলোকে পাকস্থলী থেকে বের করে দেয়।
  • ডালিম: ডালিমের পাতা এবং ফলের কৃমিনাশক ক্ষমতা আছে। এতে প্রাপ্ত রাসায়নিক উপাদান পিউনিসিন (Punicine) যা পরজীবীর জীবনের জন্য হুমকিস্বরুপ। এটি অনেক পুরনো এবং খুবই কার্যকরী সমাধান।
  • হলুদ: রান্নায় হলুদ ব্যবহার করলে পেটের কৃমির আক্রমণ কম হয়। হলুদ রান্নায় প্রচুর ব্যবহৃত হয়। তাই এটির ব্যবহার তেমন কঠিন হবে না।

পরিশেষ, দেখা যাচ্ছে কৃমিমুক্ত থাকতে অনেক ঘরোয়া উপায় রয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, খুব বেশি কৃমি আক্রান্ত হলে তা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। যদি কৃমির কারণে ওজন কমা, ঘনঘন ক্ষুধা লাগা, অবসাদ, রক্তাল্পতা এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয় তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।