সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Hair-Care-for-Winter.jpg

চুলের যত্ন শীতকালে চুলের যত্নে সাধারণ কিছু নিয়ম

শীতকালে ত্বকের আর্দ্রতার মাত্রার পরিবর্তন হয় এবং চুলের বিভিন্ন ধরনের সমস্যাও সৃষ্টি হয়। তাই এইসময় চুলের প্রতি বাড়তি যত্ন নেয়া সবারই উচিত এবং সমস্যা শুরুর আগেই যদি সতর্ক থাকা যায় তাহলে শীতকালটা খুবই ভালো ভাবে উপভোগ করা সম্ভব।

শীতকালের রুক্ষ শুষ্ক আর্দ্রতা বিহীন আবহাওয়া ত্বকের যেমন ক্ষতি করে ঠিক তেমনি করে চুলেরও। বেশির ভাগ মানুষেরই এই সময় চুল পড়ার পরিমান বেড়ে যায়। চুলের আগা ফাটা বা অন্যান্য সময়ের চেয়ে চুল বেশি শুষ্ক হয়ে যাওয়াও একটি সাধারণ সমস্যা।

তাই এভাবে চুল পড়ে যাওয়া, শুষ্ক হয়ে যাওয়া অথবা চুলের ভঙ্গুরতা কারোর কাম্য নয়। কারন শীতকালে ত্বকের আর্দ্রতার মাত্রার পরিবর্তন হয় এবং চুলের বিভিন্ন ধরনের সমস্যাও সৃষ্টি হয়। তাই এইসময় চুলের প্রতি বাড়তি যত্ন নেয়া সবারই উচিত এবং সমস্যা শুরুর আগেই যদি সতর্ক থাকা যায় তাহলে শীতকালটা খুবই ভালো ভাবে উপভোগ করা সম্ভব।

শীতকালের নিষ্প্রাণ নিস্তেজ চুলের পরিবর্তে উজ্জ্বল ঝলমলে চুল পেতে এখানে উল্লেখিত কিছু ধাপ অনুসরণ করুন:

খুসকিমুক্ত রাখতে:
শীতকালে চুলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে খুসকি। মাথার তালুর সাদা শুষ্ক ত্বকের স্তরই হচ্ছে খুসকি। কারন এই সময়ের আর্দ্রতাহীন আবহাওয়ার কারনে এই সমস্যা আরো বেড়ে যায়। চুলের বিশেষজ্ঞদের মতে এই সময় চুলে ড্রায়ার ব্যবহার না করাই ভালো কারন এতে সমস্যা আরো বাড়তে পারে।

কুসুম গরম তেলের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করা বেশ ভালো একটি উপায়। মাথার তালুতে ভালো করে লাগিয়ে কিছুক্ষন মেসেজ করুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।

চুলকে জটমুক্ত রাখতে:
শীতকালে চুলের উজ্জলতা কমে গিয়ে জট পাকিয়ে থাকার কারন শুধুমাত্র আবহাওয়া নয় অন্যান্য কারন ও এর সাথে জড়িত। গরম কাপড়ের ঘষা লাগা, মাথায় টুপি, মাফলার প্যাঁচানোর ফলেও চুলের উজ্জলতা হারায় এবং ক্ষতি হয়। কখনোই খুব গরম পানিতে চুল ধোয়া ঠিক নয়। যার ফলে চুলের রুক্ষতার পরিমান বাড়ে। চুল ধোয়ার ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। চুল আঁচড়ানোর ক্ষেত্রে শক্ত ব্রাশ বা চিরুনি ব্যবহার করা যাবে না। চুলের মসৃনতা বজায় রাখতে ভালো কোম্পানির চুলের সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।

উজ্জলতা এবং ফোলা ভাব বজায় রাখতে:
শীতকালে চুলকে উজ্জ্বল ঝলমলে চুল রাখা বেশ কঠিন একটি কাজ। আবহাওয়ার শুষ্কতা এবং নিস্তেজতা চুলকে করে তোলে নিস্প্রভ ও নিষ্প্রাণ। মধু এই সমস্যার অনেকটা সমাধান করতে পারে।

চুল ভালো ভাবে আঁচড়ে নিয়ে চুলের গোঁড়ায় মধু লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। তারপর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এই প্রক্রিয়াতে চুল পুনর্গঠিত হয় এবং চুল হয় উজ্জ্বল ঝলমলে। এটি চুলের ক্ষতি বন্ধ করার একটি উত্তম প্রক্রিয়া।

সঠিক প্রক্রিয়াতে চুল শুকাতে হবে:
শীতকালে চুল ধোয়ার পর বেশির ভাগ সময়ই সঠিকভাবে চুল শুকায় না। অনেকেই ভেবে থাকেন একটু ভেজা অবস্থায় চুল বেঁধে ফেললে হয়তো সমস্যা হবে না। কিন্তু এই কাজটা করা আসলে চুলের জন্য ক্ষতিকর। ভেজা চুল বেঁধে রাখা বেশির ভাগ চুলের সমস্যার মূল কারন। তাই কখনোই চুল পুরোপুরি ভাবে না শুকালে বা সামান্য ভেজা থাকলেও চুল বাধা যাবে না। ফ্যানের বাতাসে পুরোপুরি শুকানোর পরই চুল বাঁধুন।

চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার:
শীতকালে চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে কন্ডিশনার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। বাড়তি উপকারিতা পেতে কন্ডিশনারের সাথে চাইলে তেল ব্যবহার করতে পারেন। তবে চিটচিটে ভাব থাকে এমন তেল ব্যবহার না করাই ভালো। কন্ডিশনারের সাথে কিছুটা তেল মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানিতে চুল ধুয়ে ফেলুন।    

-
লেখক: জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ; এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ; খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান (স্নাতকোত্তর) (এমপিএইচ); মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।