সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

bakarkhani.jpg

বাকরখানি - আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সম্ভাবনা

গত দুই দশকে ফাস্টফুডের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে ক্রমেই ঢাকার অলিগলি থেকে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে বাখরখানির দোকান। বিপাকে পড়েছেন এই ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকানের মালিক আর কারিগররা। অনেকেই বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়।

মুনতাসীর মামুনের ঢাকার ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ঢাকার ইতিহাস চারশত বছরেরও বেশি পুরনো, তবে এ অঞ্চলে মানুষের বাস আরও আগে থেকে। ইতিমধ্যে সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে ঢাকার অনেক ঐতিহ্যই। ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এখনও টিকে আছে বেশ কিছু উপাদান তারই একটি বাখরখানি।

ধারনা করা হয় মুঘল সুবেদার মুর্শিদকুলি খানের মেয়ের জামাই আগা বাকেরের নাম থেকেই এই বিশেষ ধরনের রুটির নামকরন। কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে মুঘলরা খাবার এ দেশে নিয়ে আসেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।

লোককথা থেকে জানা যায়, মুঘল আমলে মুর্শিদ কুলী খানের ছেলে আগা বাকর খান নর্তকী খানি বেগমের প্রেমে পড়েন। খানি বেগমের জন্য আগা বাকর একপর্যায়ে উজিরপুত্রের ছেলের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। লড়াইয়ের কোনো এক মুহূর্তে নাকি নিহত হন খানি বেগম। আগা বাকর খান ও খানি বেগমের  প্রেম কাহিনীর ইতি ঘটে তখনই। সে সময়কার ঢাকাবাসী তাদের প্রেমকাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই রুটির নাম রাখেন বাখরখানি। সে ধারাবাহিকতায় এখনো বাখরখানি নামের প্রচলন রয়েছে।

তবে আঠারো শতক থেকেই বাখরখানি এ অঞ্চলের প্রসিদ্ধ খাবার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এখনও পুরনো ঢাকার অলিগলিতে বাখরখানির কিছু দোকান চোখে পড়লেও ব্যপক হারে নেই। গত দুই দশকে ফাস্টফুডের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে ক্রমেই ঢাকার অলিগলি থেকে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে বাখরখানির দোকান। বিপাকে পড়েছেন এই ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকানের মালিক আর কারিগররা। অনেকেই বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়।

পুরোন ঢাকার বাখরখানি বিক্রেতা সবুজ জানান, জীবিকার তাগিদে শৈশবেই গ্রাম থেকে শহরে আসে সে। প্রথমে একটি মুদি দোকানে কাজ নিলেও কিছুদিন পরেই সে কাজ নেয় লালবাগের এক বাখরখানির দোকানে। বিক্রমপুরের ছেলে সবুজ তার দোকানে বসেই শোনায় বিশ বছর আগের কথা।বছর দশেক বিভিন্ন দোকানে কাড়িগড় হিসেবে কাজ করার পর তিনি নিজেই একটি বাখরখানির দোকান দেন। চানখারপুলের তার দোকানে এখন সে ছাড়াও তার দুই ছোটভাই ও ছেলে কাজ করে।

সবুজ বলে, সরকার থেকে কোন ব্যাংক ঋণ বা ক্ষুদ্র ঋণ দিলে সে আরও স্পেস নিয়ে সে তার ব্যবসা আরও বাড়াতে চায়। বর্তমানে তার সব খরচ বাদ দিয়ে মাসিক আয় ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা। এই ব্যবসার সাথে জড়িত অনেকেই এতে বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে বলে মনে করলেও কেবল পুঁজি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা তা ঘুমিয়ে আছে।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।