সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

রাসোমন-জাপানি চলচ্চিত্রের প্রতিনিধি

সোমানে Complexity আছে । জাপানী সংস্কৃতি ও সমাজ ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব আছে । এমনকি ভয়ংকরতম ডাকাতের একজন সাধারণ নারীর কাছে ভালবাসা ভিক্ষে করার ব্যাপার আছে । ধর্ষিতার প্রতি পুরুষসুলভ মানসিকতা আছে

 

  শিল্পের অন্যতম একটা লক্ষ্য যদি হয় পাঠক কিংবা এর দর্শকদের মাঝে একটা ধুম্রজাল সৃষ্টি ,কিংবা কৌতুহলের আবির্ভাব ঘটানো ; আকিরা কুরোসাওয়ার এর   “ রাসোমান “ সেক্ষেত্রে সফলতম সৃষ্টিগুলোর একটি ।।   

১ ঘণ্টা ২৮ মিনিটের এ চলচ্চিত্র  কর্ম দেখার পর দর্শককে বিচারকের আসনে বসতে হয় , অনুভূতিকে  জাগাতে হয় , চলচ্চিত্রে বর্ণিত সত্য উদঘাটনে  । যে সত্য কিংবা যে ফলাফল  কুরোসাওয়া বলে দেন নি তার গল্পে ।  

 

রসোমান; আকিরা কুরোসাওয়ার একেবারে প্রথম সৃষ্টিগুলোর একটি । সম্ভবত সেরা সৃষ্টিগুলোর মধ্যেও অন্যতম । আকুতাগোয়ার ‘রাসোমান’   এবং ”In a Grove” এই দুটি গল্পের উপর  দাঁড় করানো রাসোমনই প্রথম কুরোসাওয়ার এবং জাপানী চলচ্চিত্রকে “Western World” এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়  । কাইয়েত শহরের  রাসোমান গেইট এ গল্পটি বর্ণনা করা হয়েছে বলে চলচ্চিত্রটির  এমন নামকরণ ।  

 

ছবির শুরুতে আমরা রাসোমন গেইটে দাঁড়ানো তিনজন মানুষকে দেখতে পাই । ঝুম বৃষ্টির দিন । একজন ধর্মযাজক , একজন কাঠুরে এবং আরেকজন । ছবির পুরো গল্পই প্রবাহিত হয়েছে এই তিনজনের বর্ণনায় । বনের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিল এক সামুরাই কৃষক আর তার সুন্দরী বউ । হঠাৎ তাদের পড়তে হয় দস্যু ভয়ংকর ডাকাত তাজোমারুর কবলে ।  তাজোমারুর লালসার শিকার হয় কৃষক বধূ । তাজোমারু কৃষককে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে ।  গল্পের এক পর্যায়ে কৃষক খুন হয় । কিন্তু কে তাকে খুন করলো ? দস্যু তাজোমারু ? তার স্ত্রী ? নাকি আত্মহত্যা ?  

কুরোসাওয়া এবার আমাদের নিয়ে যান বিচারালয়ে । যেখানে এই তিনজন তিন রকমভাবে বর্ণনা করেন খুনের ঘটনাটিকে । অবশেষে কৃষকের মৃত আত্মাকে ডাকা হয় । সে আরেক রকমভাবে বর্ণনা করে ঘটনার । এখানেই ছবির ক্লাইমেক্স এবং পরিচালকের মুন্সিয়ানা । নির্দিষ্ট করে বোঝার উপায় নেই যে আসলে কোনটি সত্য ।  

কুরাসাওয়ার গল্প বলার ধরন একেবারে আলাদা । প্রচলিত Linear বা সরলরৈখিক ধারায় গল্প বলেন না তিনি । এজন্য দর্শককে দিতে হয় শতভাগ মনোযোগ । এ মনোযোগ তিনি আদায় করতে পেরেছেন তার  রাসোমানে , বলা যায় আদায় করে নিয়েছেন । সবাই পারেন না ,  আকিরা কুরোসাওয়ার মতোরা  পারেন । তাই তাদের শিল্প হয়ে ওঠে মহৎ সৃষ্টিকর্ম ।  

রাসোমানে Complexity আছে । জাপানী সংস্কৃতি ও  সমাজ ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব আছে । এমনকি ভয়ংকরতম ডাকাতের একজন সাধারণ নারীর কাছে ভালবাসা ভিক্ষে করার ব্যাপার আছে । ধর্ষিতার প্রতি পুরুষসুলভ মানসিকতা আছে । পুরো ছবি জুড়ে কাজু মিয়াগায়ার অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফি বেশ লক্ষণীয় । তাজোমারো চরিত্রটি অসাধারণভাবে তোশিরো  মিফুনে ফুটে তুলেছেন । সামুরাই স্ত্রীর ভুমিকায় মাসিকো কেয় ছিলেন অনবদ্য । ছবির আবহ সংগীত , দৃশ্যভাবনা , কাহিনীর ভিতরে যেতে দর্শককে যেতে সাহায্য করে । 

আকিরা কুরোসাওয়ারকে এশিয়ার শ্রেষ্ঠতম পরিচালক এবং বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার বলা হয় । তার শিল্পে নান্দনিকতা আছে । রাসোমান তার সার্থক শিল্প । নিঃসন্দেহে সর্বকালের সেরা   শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলোরও একটি ।



এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।