সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

butterfly (2).jpg

বন্ধু পতঙ্গ উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি

প্রজাপতি শুধু এর ডানার বর্ণিল রঙে শুধুমাত্র সৌন্দর্যই বিলিয়ে বেড়ায় না। এর প্রতিটি উড়াল পরিবেশ আর আমাদের জন্য বয়ে আনে একেকটি কল্যান। জেনে নেই প্রজাপতি কিভাবে উপকার করে আমাদের, প্রতিদানে আমরাই বা কি করি এবং প্রজাপতি সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য।

প্রকৃতির এক নয়নাভিরাম অনন্য সুন্দর প্রতিনিধি হচ্ছে প্রজাপতি। নানা তার রং ঢঙ বাহার। কত বিচিত্র তার রং আর কত বৈচিত্রময় নকশা তার!বর্ণিল পাখায় একবার এ ডালে আরেকবার ও ডালে উড়ে বেড়ানোই তার স্বভাব। তার রঙ্গিন পাখা যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা নিটোল কোন শিল্পকর্ম।  

প্রজাপতির বর্নাঢ্য রঙ্গিন দুনিয়ার প্রতি ছোট-বড় সকলেরই রয়েছে দুর্ণিবার আকর্ষণ। ছোট বেলায় প্রজাপতির পেছন পেছন ছোটেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই ভার। বাংলাদেশের নানান পথে, প্রান্তরে, অরন্যে সৌন্দর্য ও বর্ণিল রংয়ের বাহারে মানুষকে মুগ্ধ করা ছাড়াও পরিবেশের জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক জৈব সম্পদ সংরক্ষনে এর রয়েছে অপরিসীম অবদান।  

প্রজাপতি যেভাবে উপকার করে আমাদের:
শুধু সৌন্দর্য আর রঙ্গিন বাহার নয় ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগায়নের মাধ্যমে সাহায্য করে পরিবেশের জীববৈচিত্র অক্ষুন্ন রাখতে। ফুলে ফুলে ঘোরাঘুরি করার সময় এর পা, শুং, ঢানা আর শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুলের রেণুতে মাখামাখি হয়ে যায়। এ রেণু এক ফুল থেকে আরেক ফুলে বহন করে নিজের অজান্তেই প্রজাপতি সহায়তা করে উদ্ভিদ প্রজাতির পরাগায়নে।

পরাগায়ন ছাড়া উদ্ভিদের বংশ বিস্তার অসম্ভব। কারন পরাগায়ন না হলে ফুল থেকে ফল ও বীজ হয় না। বীজ না হলে সম্ভব না বংশ বিস্তার। আর উদ্ভিদ প্রজাতি বংশ বিস্তার করতে না পারলে আমাদের অবস্থা কি হবে সেতো আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

পরাগায়নের হারের উপর নির্ভর করে ফল ফসলের ফলন। প্রজাপতি পরাগায়ন নিশ্চিত করে আমাদের ফল-ফসলের অধিক উৎপাদন।

কিছু কিছু প্রজাতির প্রজাপতি একান্তই বনাঞ্চলে বাস করে বলে তাদের উপস্থিতি-অনুপস্থিতির হারের উপর ভিত্তি করে আমরা জানতে পারি বন সম্পর্কিত নানা তথ্য।

প্রজাপতির খাবার:
এরা সাধারণত ফুলে ফুলে ঘুরে মধু, ফুলের রস, রেণু ইত্যাদি খেয়েই বেঁচে থাকে। এছাড়া বিশেষ শুংয়ের মাধ্যমে এরা গোবর, পঁচা ফল, ভেজা লবনাক্ত মাটি থেকেও খাবার খুঁজে বের করতে পারে।

যেখানে পাওয়া যায়:
বাংলাদেশের বাড়ী-ঘরের বাগান থেকে ঝোপ-ঝাড় ও বনভূমির সর্বত্র বিভিন্ন পরিবেশে প্রজাপতি পাওয়া যায়। দেশের উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিন-পূর্ব এলাকার চির সবুজ এবং মিশ্র চির সবুজ বন এবং মধুপুরের ঝরা পাতার বনে এদের বেশি দেখতে পাওয়া যায়।

সংকটে অস্তিত্ব
:
এত সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ এ প্রাণীটির জীবন, আবাসন ও বেঁচে থাকা সহ সকল বিষয়ের প্রতিই আমরা উদাসীন। এদের জীবন ব্যাবস্থা যেহেতু উদ্ভিদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই পরিবেশের যেকোন ধরনের প্রতিকূল পরিবর্তনে এরা ভীষণ ভাবে প্রভাবিত হয়। আমাদের দেশে ভীষণ ভাবে কমে আসছে প্রজাপতির সংখ্যা। সংকুচিত হয়ে আসছে তার বিচরণ ক্ষেত্র। বনাঞ্চল সহ অন্যান্য পরিবেশ নষ্ট করায় সংকুচিত হয়ে আসছে এর আবাস। 

প্রজাপতি মেলা:
প্রজাপতি সংরক্ষণ ও গবেষণায় নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করার জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি শ্লোগানে আয়োজন করা হয় প্রজাপতি মেলার।

এতে থাকে শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতির ছবি আঁকা প্রতিযোগীতা, প্রজাপতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগীতা ও প্রজাপতির হাট দর্র্শন (জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শন), প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি উড্ডয়ন, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগীতা, প্রজাপতি বিষয়ক ডকুমেন্টারী প্রদর্শনী ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান।

প্রজাপতি পার্ক:
পৃথিবীর অনেক দেশেই আজকাল বানিজ্যিক ভিত্তিতে প্রজাপতির পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। সেসব পার্কে প্রজাপতির জীবনযাত্রার অনুকূল পরিবেশ তৈরী করে জীবন্ত অবস্থায় সংরক্ষন করা হচ্ছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড ও কোরিয়ায় রয়েছে প্রজাপতির পার্ক।

আমাদের দেশে বাস করে দুই শতাধিক প্রজাতির প্রজাপতি। এগুলো আমাদের জন্য অমূল্য সম্পদ। উন্নত দেশের মত আমরাও পারি প্রজাপতির মত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীকে পার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংরক্ষন করতে; যা পরিবেশ ও প্রতিবেশের সুষম ব্যাবস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি দিতে পারে বিনোদন ও অর্থের যোগান।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।