সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

National-Memorial-Bangladesh.jpg

ঘুরে আসুন শহীদদের স্মৃতিতে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

এই স্মৃতিসৌধ আপামর জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মরণে নিবেদিত এবং শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নিদর্শন, স্থাপনা, ভাস্কর্য যখন দেখি তখন খুবই গর্ববোধ করি।

বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য জানার মাঝে আলাদা একটা তৃপ্তি আছে। দেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের গর্বের ইতিহাস, মুক্ত বিহঙ্গের মত উড়ে চলার ইতিহাস। তাই সেই ইতিহাসকে জানতে ও দেশের সকল বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সন্মান নিবেদনের জন্য গিয়েছি জাতীয় স্মৃতিসৌধে।

অবস্থান:
জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঢাকা শহর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সাভারের নবীনগরে অবস্থিত। বিভিন্ন স্থান থেকে নবীনগরগামী বাস পাওয়া যায়।

স্মৃতিসৌধে ঘুরতে গেলে সাথে আপনার ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে যেতে পারেন। তাদের সাথে মন চাইলে সকাল থেকে মাগরিবের আযানের পূর্ব পর্যন্ত কিছুটা সময় হলেও কাটিয়ে আসুন। সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষেধ। সেখানে গল্পে গল্পে শেখানোর সুযোগ পাবেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

তাৎপর্য ও স্থাপত্যের বিস্তারিত:
কোথাও ঘুরতে গেলে সাইনবোর্ডগুলো পড়ে নেই। সেখান থেকে অনেক তথ্য জানা যায়। স্মৃতিসৌধে প্রাপ্ত একটি সাইনবোর্ড যাতে স্মৃতিসৌধের স্থাপত্য ও তাৎপর্য সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দেয়া আছে তা সকলের জন্য হুবহু তুলে ধরছি:

উনিশ’শ একাত্তরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। একই বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। ত্রিশ লক্ষ অকুতোভয় দেশ প্রেমিক বাঙ্গালি স্বাধীনতার জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেন। এই স্মৃতিসৌধ আপামর জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মরণে নিবেদিত এবং শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

স্মৃতিস্তম্ভ এবং এর প্রাঙ্গণের আয়তন ৩৪ হেক্টর (৮৪ একর)। এছাড়াও রয়েছে একে পরিবেষ্টনকারী আরও ১০ হেক্টর (২৪ একর) এলাকা নিয়ে বৃক্ষরাজি পরিপূর্ণ একটি সবুজ বলয়। এই স্মৃতিসৌধ সকল দেশ প্রেমিক নাগরিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় ও সাফল্যের যুগলবন্দি রচনা করেছে। 

সাতটি ত্রিভুজ আকৃতি মিনারের শিখরদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি এক ভাবব্যঞ্জনাতে প্রবাহিত হচ্ছে। এই সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি সূচিত হয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে চুয়ান্ন, আটান্ন, বাষট্টি, ছেষট্টি ও ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

মিনারটি ৪৫ মিটার (১৫০.০০ ফুট) উঁচু এবং জাতীয় শহীদ স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিন্দুতে অবস্থিত। মিনার ঘিরে আছে কৃত্রিম হ্রদ এবং মনোরম বাগান। স্মৃতিসৌধ চত্বরে আছে মাতৃভূমির জন্য আত্মোৎসর্গকারী অজ্ঞাতনামা শহীদের দশটি গণ সমাধি। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আরও রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ, অভ্যর্থনা কক্ষ, মসজিদ, হেলিপ্যাড এবং ক্যাফেটেরিয়া।

মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ এর ১৬ ডিসেম্বর এই স্মৃতিসৌধের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। স্মৃতিসৌধের মিনার ব্যতিত প্রকল্পটির মহা পরিকল্পনা ও নৈসর্গিক পরিকল্পনাসহ অন্য সকল নির্মাণ কাজের স্থাপত্য নকশা প্রনয়ণ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থাপত্য অধিদপ্তর।

মিনারের স্থাপত্য নকশা প্রনয়ণ করেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা স্থপতি সৈয়দ মঈনুল হোসেন। বর্তমান সৌধটির নির্মাণ কাজ তিন পর্যায়ে ১৩.০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয়। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে এবং শেষ হয় ১৯৮৮ সালের জুন মাসে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর সমগ্র নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন।

শান্ত ও মনোরম পরিবেশ। বিভিন্ন সময়ে বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানদের লাগানো গাছের সমারোহ। লেকের সৌন্দর্য আর গর্বের ইতিহাস জানার জন্য কোন একটা দিন ব্যয় করে আসতে পারেন জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।