সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Newborn-Care-at-Winter.jpg

পরামর্শ জেনে নিন শীতকালে নতুন মায়েরা নবজাতকের যত্ন কিভাবে নিবেন

নবজাতককে শীতকালে যতদূর সম্ভব ঘরের ভেতরে রাখার চেষ্টা করুন। কারন এই সময়টা নতুন মা এবং শিশুর জন্য বিপদজনক। যদি মায়ের এই সময় কোনো কারনে ঠাণ্ডা লাগে বা এই ধরনের কোনো সমস্যা হয় তাহলে মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুও তাতে আক্রান্ত হয়।

শীতকালের হিমশীতল আবহাওয়া নবজাতক শিশুর জন্য সত্যিই কষ্টদায়ক। মায়ের পেটে খুব নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পর একটি নবজাতক শিশু যখন পৃথিবীতে আসে তখন সব ক্ষেত্রেই একটু বেশি যত্ন নেয়া উচিত। আর শীতকালে সেই যত্নটা নিতে হয় একটু বেশিই।

সাধারণত শীতকালে শিশুরা ঠান্ডা, কাশি এবং জ্বরেই বেশি ভোগে। এছাড়া এসময় শিশুদের ত্বক হয়ে যায় শুষ্ক। তাই নবজাতক শিশুদের এই সময় প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। স্বাস্থ্য ও ত্বকের কিছুটা বাড়তি যত্ন এবং মনোযোগই পারে নবজাতক শিশুকে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে।

শীতকালে নবজাতকের যত্ন সম্পর্কে এখানে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো:

উষ্ণ রাখা:
নতুন মায়েদের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। এটা সব সময় মাথায় রাখতে হবে যে নবজাতককে যেকোনো ভাবেই হোক উষ্ণ রাখতে হবে। যেহেতু ছোট বাচ্চারা সংবেদনশীল তাই তারা খুব সহজেই ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হয়। তাই এইসময় শিশুদের উষ্ণ রাখতে গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

কোনো শিশুই তাদেরকে ঢেকে রাখা পছন্দ করে না। তারা চেষ্টা করে টুপি বা জামা বা মোজা খুলে ফেলতে। তাই টুপি বেধে দিতে হবে, হাতে কভার পরিয়ে দিয়ে হবে যেন খুলতে না পারে।

শুকনো রাখতে হবে:
শীতকালে শিশুদের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। তাই তাদের ত্বক নরম এবং যেন র‍্যাশ মুক্ত থাকে সেজন্য সবসময় চেষ্টা করতে হবে তাদেরকে শুকনো রাখতে। কারন ভেজা কাপড় থেকে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা বেশি থাকে। প্রয়োজন মতো ডায়াপার বদলে দিতে হবে।

যদি কাপড় ভিজে যায় সাথে সাথে বদলে দিতে হবে। বেবি পাউডার আগে দিয়ে তারপর শিশুকে ডায়াপার পরাতে হবে যেন র‍্যাশ না হয়। প্রয়োজনে পিঠেও পাউডার দিন।

ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখুন:
শীতকালে শিশুদের ত্বক পরিবর্তন হয়। তাই একটু বাড়তি যত্ন নিতেই হবে। গোসল করানোর সাথে সাথেই শিশুর ত্বকে ময়েশ্চেরাইজার মাখিয়ে দিন এবং গোছলের আগে দিন বেবি ওয়েল। কুসুম গরম তেল মালিশ করলে তা শিশুকে উষ্ণ রাখতে সহায়তা করে এবং সেই সাথে তাদের হাড়কেও মজবুত করে।

ঘরের ভেতরে রাখুন:
নবজাতককে শীতকালে যতদূর সম্ভব ঘরের ভেতরে রাখার চেষ্টা করুন। কারন এই সময়টা নতুন মা এবং শিশুর জন্য বিপদজনক। যদি মায়ের এই সময় কোনো কারনে ঠাণ্ডা লাগে বা এই ধরনের কোনো সমস্যা হয় তাহলে মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুও তাতে আক্রান্ত হয়।

তাই স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে দূরে থাকতে যতদূর সম্ভব ঘরের ভেতরে থাকুন এবং নবজাতকের যত্ন নিন। মাঝে মাঝে চাইলে শিশুকে নিয়ে কিছুক্ষনের জন্য রোদে বসতে পারেন যার ফলে শিশু ভিটামিন ডি পাবে এবং ত্বক এবং কাপড় ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হবে।

ঠোঁটের যত্ন:
শীতকালে ঠোঁট ফাটা এবং এবং শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা শুধু বড়দের নয় নবজাতক শিশুরও হয়ে থাকে। তাই তাদের ত্বক উষ্ণ এবং আর্দ্র রাখতে হবে এই সময়ে। বেবি লিপ বাম বা বেবি ওয়েল ঠোঁটে ব্যবহার করতে পারেন নরম রাখার জন্য।

-
লেখক: জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ; এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ; খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান (স্নাতকোত্তর) (এমপিএইচ); মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।