সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

13_233522.jpg

শোবার ঘরের সাজসজ্জা

শোবার ঘর প্রতিটি মানুষের কাছে এক শান্তির আশ্রয়। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে একটু শান্তির জন্য সবাই চায় এই আশ্রয়। শোবার ঘরটা একটু পরিপাটি রাখলে শান্তির পরিমাণটা এক কাঠি বেড়ে যাবে। আর তা চাইলে আপনাকে করতে হবে ছোট ছোট কিছু কাজ-

* শোবার ঘরটা একটু বড় দেখেই নির্বাচন করবেন। সাথে যদি একটা বারান্দা থাকে তাহলে তো আরো ভালো। বারান্দা থাকলে সেই বারান্দায় রেখে দিন সুগন্ধি ফুল গাছের টব। যদি বারান্দা না থাকে তাহলে ঘরের মধ্যেই কোনো এক কোণে ফুলের গাছ বা এমনিই কোনো সুন্দর গাছের টব রাখুন। আপনি জেনে অবাক হবেন এই ছোট্ট গাছটাই আপনাকে অক্সিজেন সরবরাহ করবে।

* শোবার ঘরে আসবাবপত্র যত কম থাকে তত ভালো। কারণ তাতে আলো বাতাস বেশি পাওয়া যায়। আর শোবার ঘরে যেন জানালা থাকে সে বিষয়টাও খেয়াল রাখবেন। জানালাটা দিয়ে পর্যাপ্ত আলো বাতাস আসলে খুব ভালো, না আসলেও জানালা খোলা রাখলে আপনার মনটা ভালো হয়ে যাবে। আর সেই জানালায় ঝুলিয়ে দিন আপনার পছন্দের রঙয়ের বাহারি পর্দা। এতে ঘরের সৌর্ন্দয বেড়ে যাবে। মনটাও প্রফুল্ল থাকবে। 

* শোবার ঘরে টিভি বা কম্পিউটার রাখবেন না। অনেকে টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়তে পছন্দ করেন। এটা ঠিক নয়। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তারচেয়ে আপনি গান বা কবিতা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। অথবা হাতে তুলে নিতে পারেন পছন্দের লেখকের কোনো বই। বই পড়তে পড়তে বরং আপনার ঘুম তাড়াতাড়ি চলে আসবে। তাই যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তারা এ পদ্ধতিতে ঘুমাতে পারেন।

* বিছানার চাদর ঘুমানোর আগে বিছানো ভালো। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত খুব ভালো করে বিছানা ঝেড়ে নেবেন। কিংবা বিছানার উপর একটা কাঁথা বিছিয়ে ঘুমাবেন। দেখবেন ঘুম ভালো হবে। অথবা আপনি বিছানার চাদরটা পুরনো কোনো বিছানার চাদর বা লুঙ্গি কিংবা ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখুন, ঘুমানোর আগে সেটা ‍তুলে বিছানা ঝেড়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। এতে বিছানার চাদরটা পরিষ্কার থাকে ঘুমও ভালো হয়।

* বিছানায় প্রয়োজনের অধিক কিছু না রাখাই ভালো। চাইলে দু’একটা কুশন রাখতে পারেন।

* আপনি যদি চাকরিজীবী হন তাহলে সারাদিন বন্ধ থাকায় ঘরটা গুমোট হয়ে থাকে তাই ঘরে ঢুকেই জানালা দরজা খুলে জোরে ফ্যান চালিয়ে দিন। আর ছড়িয়ে দিন কোনো মিষ্টি গন্ধের এয়ার ফ্রেশনার। মুহূর্তেই আপনার ঘরটা সজীব হয়ে উঠবে।

* শোবার ঘরের দরজায় ঝুলিয়ে উইন্ড চাইম বাতাসে টুংটাং আওয়াজ আপনার মনকে প্রফুল্ল করে তুলবে।

* শোবার ঘরের আলোটা যেন কড়া না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। ঘুমানোরা সময় ঘরে ডিম লাইট জ্বালিয়ে নিন। শুয়ে পড়ার অভ্যাস থাকলে খাটের পাশেই রাখতে পারেন সুন্দর টেবিল ল্যাম্প যা সৌর্ন্দয বৃদ্ধি করবে, পাশাপাশি প্রয়োজনীয়তাও মেটাবে।

* শোবার ঘরে ফ্রিজ রাখবেন না। ফ্রিজ রাখলে ঘর গরম হয়ে যায়। এতে আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে। তাই ফ্রিজটা অন্য ঘরে বা রান্নাঘর কিংবা ডাইনিং স্পেসে রাখুন।

* খাবার কোনো জিনিস শোবার ঘরে না রাখাই ভালো। খাবারের পিঁপড়া বিছানায় উঠে আপনার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দেবে।

* আপনার অ্যাটাচড বাথটা সবসময় পরিষ্কার রাখুন। না হলে উৎকট গন্ধ আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবে। শুধু তাই নয় আপনার অস্বস্তিও হবে।

* শোবার ঘরের দেয়াল জুড়ে রাখতে পারেন আয়না। এতে ঘরটা খোলামেলা লাগবে। আর নিজেকেও দেখেতে পাবেন। বেশ ভালোই লাগবে। 

* শোবার ঘরে একটা বড় দেয়াল ঘড়ি রাখবেন। কেননা আপনি কখন ঘুমাতে যাচ্ছেন আর কখন ঘুম থেকে জাগছেন তা জানা জরুরি।

এবার দেখুন আপনার শোবার ঘরটি আপনার কাছে আরো প্রিয় হয়ে উঠেছে।



এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।