সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

bangladesh-to-italy.jpg

হাতে লেখা পাসপোর্টের দিন শেষ! সহজেই মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পাওয়ার উপায়

নভেম্বর মাসের ২৪ তারিখের পর থেকে হাতে লেখা পাসপোর্ট দিয়ে কোন ব্যক্তি ইমিগ্রেশন ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করতে পারবে না। ফলে দেশের বাহিরে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) ছাড়া যাতায়াত করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ICAO) গাইড লাইন ও ডেডলাইন অনুযায়ী এই মাস অর্থাৎ নভেম্বর মাসের ২৪ তারিখের পর থেকে হাতে লেখা পাসপোর্ট দিয়ে কোন ব্যক্তি ইমিগ্রেশন ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করতে পারবে না। ফলে ছুটি নিয়ে বা চাকুরি শেষে দেশে আসতে হলে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) ছাড়া যাতায়াত করা যাবে না।

বর্তমানে ১৫৯ টি দেশে মাত্র ৪০ শতাংশ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট নেয়া প্রায় ৯০ লাখ বাংলাদেশী অবস্থান করছে। তবে সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকলের হাতে পাসপোর্ট তুলে দিতে গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে।

বর্তমানে পাসপোর্ট করলে আপনাকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টই দেয়া হয়। এটির জন্য অনলাইন বা হাতে লিখে ফরম পূরণ করতে হয়। তবে হাতে লিখে পূরণ করার চেয়ে অনলাইনে করা অনেক সহজ ও উত্তম।

অনলাইনে ফরম পূরণের সুবিধা:

  • অনলাইনে পূরণকৃতদের লাইনে দাঁড়াতে হয় না।
  • নিজের তথ্য নিজেই পূরণ করা হয় বলে ভুলের সম্ভাবনা নেই।
  • অসাধুদের খপ্পরে পড়ার ভয় নেই।

সুতরাং পরামর্শ হচ্ছে অনলাইনেই পাসপোর্ট ফরম পূরণ করবেন। কিছু ধারণা থাকলে খুব সহজে বাসায় বসেই ফরমটি পূরণ করতে পারবেন। মাত্র কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই পাবেন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট। চলুন জানা যাক সেগুলো:

ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া: ফরম পূরণের পূর্বে টাকা জমা দিতে হয়।

  • সোনালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া যায়।
  • রিগুলার ফি অর্থাৎ ১ মাসের মধ্যে পাসপোর্ট নিতে চাইলে - ৩০০০ টাকা এবং
  • ইমারজেন্সি বা এক্সপ্রেস অর্থাৎ ১৫ দিনের মধ্যে নিতে চাইলে  - ৬০০০ টাকা জমা দিতে হয়।
  • টাকা জমাদানের তারিখ ও রিসিট ফরম পূরণের সময় লাগবে।

নবায়ন ফি: হাতে লেখা পাসপোর্ট এর জন্য নবায়ন ফি উপরের নিয়মেই দিতে হয়।

  • জরুরী ফি (৩ দিনের মধ্যে নবায়ন) - ৫০০ টাকা এবং
  • সাধারণ ফি (৭ দিনের মধ্যে নবায়ন) - ৩০০ টাকা।
  • নবায়ন ও নতুন পাসপোর্ট একইভাবে করা যায়। যারা বিদেশে অবস্থান করছেন তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট দেশে থাকা বাংলাদেশী দুতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত পরামর্শ নিবেন।

টাকা জমাদানের জন্য ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকার প্রয়োজন নেই। এ টাকা পাসপোর্টের জন্য আলাদাভাবে জমা নেয়।

ফরম পূরণ:

  • ফরম পূরণের জন্য www.passport.gov.bd লিংকটিতে যান। সেখানে থাকা নির্দেশনাগুলো পড়ে নিয়ে I have read the above information and…. অংশটি নির্বাচন করুন। তারপর CONTINUE TO ONLINE ENROLMENT এ ক্লিক করে পরবর্তী স্টেজে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে স্টেজটি পূরণ করবেন। স্টেজটি পূরণ হলে SAVE & NEXT এ ক্লিক করবেন। এভাবে সাবধানতার সাথে সবগুলো স্টেজ পূরণ করবেন।
  • ফরমটি পূরণের সময় দেখবেন ডট (.) নিচ্ছে না অর্থাৎ MD. লিখতে পারছেন না! নির্দেশনায় দেয়া আছে MD এর পরিবর্তে MOHAMMAD অর্থাৎ পুরোটাই লিখতে হবে! এটা নিয়ে সংশয় আছে কারণ আপনার সার্টিফিকেটে আছে MD.। অফিসে কথা বললে নির্দেশনার কথাই বলে। সুতরাং অভিজ্ঞ যারা দেশের বাইরে আছেন তাদের পরামর্শ হচ্ছে MD লেখা।
  • আপনি যেদিন ছবি উঠাতে যাবেন তার একটা সুবিধাজনক সময় দিবেন। ফরম পূরণের সময় ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাবেন। সেটি যত্ন করে রাখবেন।
সবকিছু ভালভাবে পূরণ করে সাবমিট করলে পূরণকৃত ফরমের কপি ইমেইলে চলে আসবে।

ফরম প্রিন্টকরণ: ইমেইল থেকে ফরমটি ডাউনলোড করে নিচের কাজগুলো করবেন:

  • পিডিএফ ফরমটি কালারপ্রিন্ট করবেন – ২ কপি (অতিরিক্ত কপিও রাখতে পারেন)।
  • কিছু স্থান হাতে পূরণ করতে হবে।
  • সাইন করবেন।
  • পরিচিত প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার কাছ থেকে সিলসহ সত্যায়ন করা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড এর রঙ্গিন ছবি – ২ কপি (৪ কপি করে রাখা ভাল)।
  • ছবি যথাস্থানে আঠা দিয়ে লাগিয়ে সত্যায়িত করবেন। কারণ স্বাক্ষর ও সিলমোহরের অর্ধেক ছবির উপর এবং বাকি অংশ ফরমের উপর পড়তে হয়।
  • পরিচিত কর্মকতার নাম, যোগাযোগ ঠিকানা ও মোবাইল ফোন নম্বর ফরমে লিখতে হবে।
  • আবেদনকারীর বয়স ১৫ বছরের কম হলে বাবা মায়ের ছবি - ১ কপি করে (রঙ্গিন)।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি – সত্যায়িত (প্রয়োজনের চেয়ে দুই এক কপি বেশি করবেন)। মূল কাগজপত্র, মূল পরিচয়পত্র ইত্যাদি সাথে রাখবেন।
  • পূর্ববর্তী পাসপোর্টের (যদি থাকে) ফটোকপি – সত্যায়িত।
  • সত্যায়িত ছবি ও ব্যাংকের রিসিট যথাস্থানে আঠা দিয়ে লাগাবেন। রিসিট প্রথম পাতার উপরে লাগানোর সময় লক্ষ্য রাখবেন যেন বারকোড ঢেকে না যায়।

সবকিছু অতিরিক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছি। কারণ পাসপোর্ট অফিসে অনেক অসাধু ব্যক্তির খপ্পর থাকতে পারে। যারা সামান্য একটা পিনআপ করার জন্যও চায়ের টাকা চাইতে পারে! তাছাড়া অনেক সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি ইত্যাদির অতিরিক্ত কপি প্রয়োজন হতে পারে।

ছবি তোলা: ছবি তোলার জন্য আপনার প্রদত্ত নির্দিষ্ট দিন সকাল সকাল পাসপোর্ট অফিসে যাবেন। সেদিন যা করতে হবে:

  • সাদা পোশাক পড়বেন না।
  • পাসপোর্ট অফিসের কোন কক্ষে প্রথম যাবেন তা পাসপোর্ট অফিসে থাকা সেনা কর্মকর্তা/ আপনার পরিচিত যিনি পূর্বে পাসপোর্ট করেছেন তার কাছ থেকে জেনে নিয়ে যাবেন।
  • সেখানে ফর্মটি ভেরিফাই করে সই করে একটি সিরিয়াল নম্বর দিবে।
  • এবার আপনি যাবেন উপ-কমিশনারের কাছে। তিনি ভেরিফাই করার পর পাশের কাউন্টারে ছবি উঠতে যাবেন।
  •  সেখানে সংশ্লিষ্ট অফিসার আপনার ছবি তুলবে, আঙ্গুলের ছাপ ও স্বাক্ষর নিবে। শেষে একটি রশিদ ধরিয়ে দিবে। এতে পাসপোর্ট পাওয়ার একটা তারিখ দেয়া আছে। সাধারণত ঐ তারিখে পাওয়া যায় না। তাই চিন্তা করবেন না।

রশিদটি ভাল করে রাখবেন। আপনার কাজ শেষ। এখন পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করবেন।

পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার দিন: পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে আপনার প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে একটা মেসেজ যাবে। ইমেইলও যায়। তবে আমি পাইনি। মেসেজ পেলে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে যা করবেন:

  • আপনার কাছে থাকা রশিদটি জমা দিবেন।
  • কিছুক্ষণ পর মাইক দিয়ে আপনাকে ডাকবে। পাসপোর্ট দেয়ার সময় আপনার সাইন নিবে। সেই সাথে আপনিই পাসপোর্ট হোল্ডার কিনা তা জিজ্ঞেস করবে। চেহারার সাথে ছবি মেলাবে। জরুরী ক্ষেত্রে কথা বলে অন্য কাউকে দিয়েও আনা যায়। তবে দরকার কি ঝামেলা বাড়ানোর?

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: http://www.dip.gov.bd/


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।