সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

pic.jpg

বাচ্চা হারা মা পাখির করুণ চাহনি ও যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার শিশুদের আর্তনাদ

যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার শত শত শিশু পাচার হয়ে গেছে। লাখো শরণার্থীর পিছু পিছু হেটে চলেছে অবুঝ শিশুরা অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। অসংখ্য মেয়ে ও ছেলে শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। অনেকের ঠাঁই হয়েছে ইউরোপের যৌন পল্লীগুলোতে ........

বাসার বারান্দার এক কোণায় একজোড়া ঘুঘু পাখি বাসা বেধেছিল। সকালে তাদের সুমধুর ডাকে আমার ঘুম ভাঙতো। ওদের ছিল ছোট পরিবার সুখী পরিবার। দু’টি ছানা ছিল। এখনো উড়তে শেখেনি। হঠাৎ দেখি ছানা দু’টি নেই। মা পাখিটা হন্যে হয়ে খুঁজছে। এক সপ্তাহ পার হওয়ার পর ভাবলাম ছানা যখন নেই তাহলে পাখির বাসাটা ভেঙে ফেলি। কারণ জায়গাটা ময়লা হয়েছিল। বাসা ভাঙতে গিয়ে তো বিপদ। মা পাখিটা মাত্র দেড় হাত দূরেই বসে আছে। এমনভাবে চোখ বাঁকা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে যেন আমিই ও বাচ্চা চুরি করেছি। ভয় দেখালেও মা পাখি সেখান থেকে নড়ে না বরং ক্ষুব্ধ ও করুণ চেহারা নিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে- ‘বাচ্চা ফেরত চাই।’

কিছুদিন যেতেই দেখলাম একটি বাচ্চা নীচে রাখা কিছু কাগজের কার্টুনের ভেতর  থেকে বেরিয়ে এসেছে। ওড়ার বয়স হলেও প্রায় দশ বারো দিনে না খেয়ে শুকিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থা। তখন বুঝলাম কাক এসে একটি বাচ্চা নিয়ে গেছে আর অন্যটি নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল এতদিন। শেষমেশ ঘরে এনে দুই তিন দিন মুখ টিপে টিপে জোর করে কিছু শুকনা রুটি ও পানি খাওয়ালাম। তাতেই চাঙ্গা হয়ে পাশেই গাছের ডালে উড়ে গিয়ে বসল। দেখা হল মা পাখিটার সঙ্গে। খুশিতে তারা এডাল থেকে ওডালে চক্কর দিচ্ছে।

এতো দিন ধরে বাচ্চা হারা মা পাখিটির করুন চাহনি, গুম হয়ে যাওয়া ছানার ফিরে আসার অপেক্ষা আর ছানা পাখিটির রুগ্ন অবস্থা দেখে মনে পড়ে গেল যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার শিশুদের কথা। এক সময়কার কোটিপতি ঘরের আদরের দুলাল আজ শুকনো রুটির জন্য হাহাকার করছে। অপুষ্টিতে মৃত প্রায় অনেকের চেহারা ঠিক যেন হঠাৎ বের হয়ে আসা ছানা পাখির মতো। কাকের মতোই ধর্মের নামে গড়ে ওঠা ভয়ঙ্কর জঙ্গি (আইএস) হায়নারা তছনছ করে দিয়েছে শত শত নয় বরং লাখ লাখ পরিবারকে। গত পাঁচ বছরে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। যুদ্ধ ও শরণার্থীর ঢলে ছোট্ট শিশুরা অনেকেই বাবা কিংবা মা হারিয়েছে। আবার বহু বাবা-মা তাদের হারানো সন্তানদেরকে পাগলের মতো খুঁজছে। চেহারায় তাদের ক্ষোভ ও আতঙ্কের ছাপ ঠিক যেন মা পাখিটার মতো। হয়তো কুড়িয়ে পাওয়া কোনো শিশুকে দয়াপরবশ হয়ে কোনো এনজিও সংস্থা খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে-যেভাবে আমি মৃতপ্রায় ছানার মুখে খাবার তুলে দিয়েছিলাম। এরই মধ্যে শত শত শিশু শরণার্থীর ঢল থেকে অন্যত্র পাচার হয়ে গেছে। লাখো শরণার্থীর পিছু পিছু হেটে চলেছে অবুঝ শিশুরা অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। অসংখ্য মেয়ে ও ছেলে শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। অনেকের ঠাঁই হয়েছে ইউরোপের যৌন পল্লীগুলোতে। আরব রাজা বাদশাহ ও প্রিন্সরা অতি অল্প বয়সি মেয়েদের বিয়ে করার জন্য কিংবা যৌন দাসি করে রাখার জন্য লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বহু শিশু অকালে প্রাণ  হারিয়েছে। শিশুদের এ অবস্থা সহ্য করার মতো নয়। সেই দিনের অপেক্ষায় আছি যেদিন শরণার্থী শিশুরা বাবা মাকে খুঁজে পাবে, ফিরে আসবে আপন ঠিকানায়। #

মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন

রেডিও তেহরান


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।