সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

early-dinner.jpg

স্বাস্থ্যতথ্য জেনে নিন রাতের খাবার আগে খাওয়ার উপকারিতা

সুস্থ থাকতে দিনের আলোতেই খাবার শেষ করতে হবে। অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭ টার মাঝেই রাতের খাওয়া শেষ করে ফেলুন। এর অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে। এই অভ্যাস এর ফলে দেহের পরিপাকতন্ত্রের একটা বিশ্রামও হয়।

ঘুম থেকে উঠার পর সারাদিনে সবারই কম বেশি কর্ম চাঞ্চল্য থাকে কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে খুব কম কাজই থাকে। ক্যালরি বার্ন হয় খুবই কম পরিমানে। তাই খাবার বেলাতেও ঠিক একই নিয়ম অনুসরণ করা প্রয়োজন। দিনের শুরুতেই খাবার পরিমান বেশি থাকবে তাহলে শরীরে কাজের শক্তিও বেশি থাকবে। আর আস্তে আস্তে খাবার পরিমান কমিয়ে ফেলতে হবে।

কিন্তু অনেকের মাঝেই দেখা যায় উল্টা নিয়ম। সকালে অনেকেই নাস্তা করেন না। দুপুরেও খুব বেশি খাওয়ার হয়তো সুযোগ থাকে না কাজের চাপে। তাই রাতে ইচ্ছে মতো খাবার খেয়ে সারাদিনের ক্ষুধা মিটিয়ে নেন। এই কাজটি যারাই করেন তারা একবারও ভাবেন না এভাবে তারা স্বাস্থ্যের কতটা ক্ষতি করছেন। হার্টের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি সহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা তারা ডেকে আনেন। 

তাই সুস্থ থাকতে দিনের আলোতেই খাবার শেষ করতে হবে। অর্থাৎ সন্ধ্যা ৭ টার মাঝেই রাতের খাওয়া শেষ করে ফেলুন। এর অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে। এটাকে অনেকটা রাত্রিকালীন রোজাও বলতে পারেন। এই অভ্যাস এর ফলে দেহের পরিপাকতন্ত্রের একটা বিশ্রামও হয়। 

চলুন তাহলে জেনে নেই উপকারিতা গুলো:

পরিপাকতন্ত্র বিশ্রামের সুযোগ পায়:
সারাদিন পরিপাকতন্ত্র গৃহিত খাবার প্রক্রিয়াজাত করতে অনেক পরিশ্রম করে। রাতের রোজা বা সন্ধ্যা ৭ টার পর না খাওয়া হলে পরিপাকতন্ত্রকে বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ করে দেয়া যায়। কারন পাকস্থলী খালি হতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন। তাই যদি রাতের খাবার দেরি করে খাওয়া হয় বা অনেক রাতে কোনো স্ন্যাক্স খাওয়া হয় তাহলে ঘুমের আগে পরিপাকতন্ত্র সেই খাবার হজম করতে পর্যাপ্ত সময় পায় না।

কিছু রোগের জন্য উপকারি:
একটানা যদি বেশি রাতে না খাওয়া হয় তাহলে তা হৃদরোগী এবং স্থূলতার সমস্যা যাদের আছে তাদের জন্য বেশ উপকারি। কারন এই রোজা ghrelin নামক ক্ষুধার হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই হরমোন বেশির ভাগ সময় স্থূল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অকার্যকর থাকে। রাতের খাবার আগেই সেরে ফেললে তা দেহ থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়ার সুযোগ পায় এবং এটি ইন্সুলিনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

ভাল ঘুমের জন্য:
রাতের খাবার আগে খেয়ে ফেললে পরিপাকতন্ত্র যখন বিশ্রামের সুযোগ পায় তখন ঘুমও ভাল হবে।

ফ্যাট বার্ন হবার সুযোগ দেয়া:
বেশির ভাগ মানুষই সন্ধ্যা ৭ টার পর অনেকটা অলস সময় কাটান। তাই বেশি রাতে খাবার খেলে তা সঠিক ভাবে বার্ন হবার সময় পায় না যার ফলে তা দেহে জমা হয়। যদি আগে খেয়ে ফেলা হয় তাহলে তা ঘুমের সময় হওয়ার আগেই অনেকটা বার্ন হয়ে যায়।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে:
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা দেরি করে রাতের খাবার খায় তাদের ৫৫% এর মাঝে হৃদরোগ হবার সম্ভাবনা থাকে। তাই রাতের খাবার আগে খেয়ে হৃদরোগের সম্ভাবনা থেকে মুক্ত থাকা যায়।

প্রতিটি মানুষেরই সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার ইচ্ছে থাকে। হঠাৎ করে কেউ নিয়ম পাল্টে ফেলতে পারে না। তাই প্রতিদিনের চেষ্টায় একটু একটু করে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো আয়ত্বে আনা সম্ভব।

নিজেদের দৈনন্দিন জীবন যাপনে কিছুটা পরিবর্তন এনে খুব সহজেই সুস্থ থাকা যায় এবং আর তার জন্য প্রয়োজন শুধু ইচ্ছাশক্তি।

-
লেখক: জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ; এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ; খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান (স্নাতকোত্তর) (এমপিএইচ); মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।