সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

123359_1.jpg

জেনে রাখুন যে কারণে কবর থেকে লাশ তুলে ময়না তদন্ত (প্রথম পর্ব)

আবেগতাড়িত কারণেও কবর থেকে লাশ তুলে পুনরায় কবর দেয়ার জন্য। যেমন- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অনেক লাশ কফিন এবং যথাযথ নিয়ম ছাড়াই কবর দেয়া হয়েছিল।

বিভিন্ন সময়ে দেশ-বিদেশে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ তোলা হয়। একে Exhumation বলা হয়। ল্যাটিন শব্দ Ex যার অর্থ out off বা বাহিরে এবং humus অর্থ ground বা ভূমি। সমন্বিত অর্থ দাঁড়ায় ভূমির বাইরে। বিশদভাবে বলতে গেলে অর্থ দাঁড়ায়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মৃতদেহ কবর খনন করে উত্তোলন করে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় যেমন লাশের পরিচয় বের করা।

কখন দরকার পড়ে: সাধারণত নিম্নোক্ত কারণে লাশ পুনরায় তোলার প্রয়োজন পড়তে পারে

  • যখন প্রথমবারের ময়নাতদন্তে অপর্যাপ্ত তথ্য থাকে।
  • অপর্যাপ্ত তথ্য থেকে অধিকতর তথ্য পেতে।

এখন পুনরায় ময়নাতদন্তের আরো কিছু কারণ একটু বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে:

ক্রিমিনাল বা অপরাধীর ক্ষেত্রে:

  • মৃত্যুর কারণ বের করতে।
  • যদি গুলিতে নিহত হয় এবং সেই গুলিসহই কবর দেয়া হয় তবে গুলি উদ্ধার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে।

সাধারণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে:

  • সম্প্রতি মৃত্যবরণকারী ব্যক্তিকে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে, ভুলভাবে, অসাবধানতা বা চালাকী করে কবর দিলে।
  • ঐতিহাসিক কারণ যেমন পূর্ববর্তী লোকেদের পুষ্টি এবং রোগের ধারণা পেতে।
  • মৃত্যুর কারণ পুনরায় সঠিকভাবে জানতে। যেমন- যুক্তরাষ্ট্রের ১২তম প্রেসিডেন্ট জ্যাকারি টেইলরের মৃতদেহ ১৪১ বছর পর তোলা হয়েছিল।
  • যখন কবরস্থান কোন কারণে অন্যত্র সরানোর প্রয়োজন পড়ে।
  • যদি আত্মীয়রা কবরস্থান সম্পর্কে অন্যকোন স্থান নির্দেশ করে অর্থাৎ কোথায় কবর দেয়া হয়েছে তার সঠিক ধারণা দিতে না পারলে।

অপ্রত্যাশিত কারণ:

  • আবেগতাড়িত কারণেও কবর থেকে লাশ তুলে পুনরায় কবর দেয়ার জন্য। যেমন- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অনেক লাশ কফিন এবং যথাযথ নিয়ম ছাড়াই কবর দেয়া হয়েছিল। তাই যুদ্ধের পর অনেক মৃতদেহ তুলে পুনরায় যথাযথ নিয়ম পালন শেষে কবর দেয়া হয়।
  • নিরোপরাধীকে সাজা দিলে ক্ষমা চাইতে। টিমোদি জন ইভানস নামক যুক্তরাজ্যের এক ব্যক্তিকে নিজ কন্যাকে হত্যার অভিযোগে ১৯৫০ সালে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনার ১৬ বছর পর প্রমাণিত হয় যে ইভানস নির্দোষ ছিলেন। তাই ইভানসের লাশ তুলে ক্ষমা প্রার্থনা করে পেন্টভিলি জেলের বাইরে পুনরায় সমাহিত করা হয়।
  • অভিযুক্ত ঘটনার তদন্ত করতেও লাশ তোলার প্রয়োজন হতে পারে। ১৯৫৩ সালে জন রেজিনাল হেল্লিডে ক্রিস্টিকে ৬ জন মহিলা হত্যার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যাদের লাশ তার ঘরেই পাওয়া যায়। তার ঘর সার্চ করে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একটি তামাকের বক্সে কিছু গোপনাঙ্গের লোম পান। ক্রিস্টি জানান বেরিল ইভান নামক ১৯ বছরের একটি মেয়েকে হত্যা করে তার লোম এনে রেখেছেন। এসব দ্বারা ক্রিস্টি নিজেকে পাগল প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। যাতে তার সাজা কম বা মওকুফ করা হয়।
    পরবর্তীতে ডাঃ কেইথ সিম্পসন বেরিলের মৃতদেহ তুলে ক্রিস্টি প্রদত্ত লোম ও মৃতদেহের লোম পরীক্ষা করার পর প্রমাণিত হয়েছিল যে ক্রিস্টি মিথ্যা বলেছেন।
  • অসাবধানতাবশতঃ লাশের সাথে প্রয়োজনীয় কোন বস্তু থেকে গেলে পরিবারের লোকেদের অনুরোধে লাশ তোলা যায়।

আজ এটুকুই। পরবর্তী পর্বে ময়নাতদন্তের নিয়মসহ বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। এই লেখা কবর থেকে লাশ তুলে ময়নাতদন্ত সম্পর্কিত কিছু সাধারণ জ্ঞানার্জনের নিমিত্তে প্রকাশিত হচ্ছে। দেশের প্রচলিত আইন-কানুনের জন্য ক্ষতিকর, তদন্তে ব্যাঘাত ঘটানো, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ইত্যাদি কাজে এই লেখা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তথ্যসূত্র: Fenton JJ Toxicology, Lane B. The encyclopedia of Forensic Science, Mant AK, Furbank R (1957) Adipocare. 


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।