সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

6.jpg

কষ্টের স্মৃতি পারভিনকে বাঁচতে দেয়নি পাক হায়নারা

পারভিন মার্চের ১৭ তারিখ ফুফুর বাসায় চলে যায়। ২৫ তারিখ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের গণহত্যার পর পারভিনের বাবা অনেক চেস্টা করেও পারভিনের সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি।

চট্টগ্রামের রশিদ মাস্টারের ছোট মেয়ে পারভিন ইডেন কলেজে পড়ত। অষ্টাদশী পারভিন ছিল বাবা মায়ের আদরের ছোট মেয়ে। সুন্দরী চটপটে পারভিন লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় ছিল চৌকষ।

ইন্টার কলেজ ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন মেয়ে সবসময় মাথায় দুইটা ঝুটি করে রাখত। আর কপালে থাকত লাল টিপ... ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদ্য প্রমোশন পাওয়া ক্যাপ্টেন রাশেদের সাথে পারভিনের প্রথম পরিচয় এক ফ্যামিলি পার্টিতে।

লম্বা সুঠাম দেহের হাসিখুশি রাশেদ কে প্রথম দেখাতেই ভাল লাগে পারভিনের। রাশেদেরও ভাল লাগে সুন্দরী পারভিনকে। দুজনের বন্ধুত্তটা গভীরতা পায়। রাশেদ কে ভালোলাগার কথা পারভিন প্রথমে জানায় প্রিয় বন্ধু চাচাত বোন আইরিনকে। এ কান ওকান হতে হতে কথাটা যায় বাবার কানে।

আদর্শবান রাশভারি শিক্ষক রশিদ মাস্টার, লুকাছাপা পছন্দ করেন না। প্রথমেই পারভিন আর বন্ধুর ছেলে রাশেদ কে ডেকে বকাবকি করেন। দু জনকে সাফ বলে দেন "প্রেমে পড়েছ ভাল কথা। যা হবার পারিবারিক ভাবে হবে, পালিয়ে টালিয়ে করা যাবেনা"। একটু পর পারভিন বুঝে বাবা তার আদরের ছোট মেয়ে পারুকে নিরাশ করেনি।

৭১ এ মার্চের ২ তারিখ থেকে ঢাকা শহরে গোলমাল বেড়ে যায়। পারভিন হোস্টেল ছেড়ে চট্টগ্রাম বাড়িতে যাওয়ার জন্য বার বার বাবাকে ফোন দেয়। কিন্তু ৩ তারিখ চট্টগ্রামে মিছিলে গুলিতে ৫০ জনের মত নিহত হওয়ায় চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ছিল আরো খারাপ। তাই বাবা পারভিনকে চট্টগ্রাম না এসে বক্সিবাজারে ফুফুর বাসায় উঠতে বলে।

পারভিন মার্চের ১৭ তারিখ ফুফুর বাসায় চলে যায়। ২৫ তারিখ রাতে অপারেশন সার্চলাইটের গণহত্যার পর পারভিনের বাবা অনেক চেস্টা করেও পারভিনের সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি। পাক বাহিনী এমন করবে এটা সারা বাংলার মানুষের মত রশিদ মাস্টারও কল্পনা করতে পারেননি।

নিজেই ঢাকা রওনা দেন ছোট মেয়েকে দেখার জন্য। মার্চের ২৮ তারিখ বক্সিবাজারে বোনের বাসায় যেয়ে বোনের লাশ দেখতে পান প্রথমে। তিনদিনের মাছি ধরা লাশ। ভেতরের একটা ছোট্ট ঘরে পারভিনের লাশ পাওয়া যায়।

পর্দার স্ট্যাণ্ডের সাথে পেচিয়ে মুখ দিয়ে পাকস্থলি পর্যন্ত ঢুকিয়ে হত্যা করে হয়েছিল পারভিনকে। পারভিনের ডায়েরীর প্রথম পাতায় সুন্দর করে গোটা গোটা রঙিন অক্ষরে লেখা ছিল একটা নাম... রাশেদ।

১৯৫৩ এর আজকের এই দিনে পারভীনের জন্ম হয়েছিল। আমার খালা। পাকবাহিনী যার মুখে পর্দার স্ট্যান্ড ঢুকিয়ে হত্যা করেছিল। রাশেদ কে যে ভালোবাসত... 

বিশেষ ক্রিতজ্ঞতাঃ 
ওয়ারিশ আজাদ নাফি
প্রতীকী ছবিঃ ইন্টারনেট
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।