সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

trade-license-bangladesh.jpg

জেনে নিন ট্রেড লাইসেন্স পেতে করণীয়

কিছু নিয়মনীতি মেনে আবেদন করে উদ্যোক্তরা এই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারেন। লাইসেন্সের প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয় সিটি কর্পোরেশন বা সিটি পরিষদ কর্তৃক।

যদি আপনি কোন কাজ করতে চান তবে প্রাথমিকভাবে কিছুটা হলেও ধারণা নিয়ে আগাবেন। অন্যথায় অসাধু লোকদের পাল্লায় পড়ে কাজটির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। এই লেখায় আপনি ট্রেড লাইসেন্সের উপর কিছু ধারণা পাবেন, যা আপনার লাইসেন্স পেতে খুবই সহায়ক হবে।

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্সের শুরু হয় সিটি কর্পোরেশন [কর] বিধি, ২০০৯ এর মাধ্যমে। কিছু নিয়মনীতি মেনে আবেদন করে উদ্যোক্তরা এই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারেন। লাইসেন্সের প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয় সিটি কর্পোরেশন বা সিটি পরিষদ কর্তৃক।

লাইসেন্সটি বিশেষভাবে শুধুমাত্র আবেদনকারী যোগ্য ব্যক্তির নামে প্রদত্ত হয় এবং এটি কখনই হস্তান্তরযোগ্য নয়। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কাজে লাইসেন্সটি ব্যবহারে অযোগ্য বিবেচিত হয়।

তথ্য প্রমাণিত বা সংযুক্তি:
বিভিন্ন ধরণের ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায়। সকলক্ষেত্রে একই ধরণের তথ্য প্রমাণাদি বা সংযুক্তি প্রয়োজন হয় না। চলুন জানা যাক কোথায় কোন ধরণের প্রমাণাদি বা সংযুক্তি  প্রয়োজন হয় :

সাধারণ ট্রেড লাইসেন্সের জন্য: ভাড়ার রশিদ বা চুক্তিপত্রের সত্যায়িত কপি, হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের কপি।

শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স:
  • সাধারণ ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে যে ডকুমেন্টগুলো লেগেছে।
  • পরিবেশ সংক্রান্ত অনাপত্তি পত্র।
  • প্রতিষ্ঠানের অবস্থান চিহ্নিত মানচিত্র।
  • অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র।
  • ১৫০ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে যাবতীয় নিয়মাবলী মেনে চলার অঙ্গীকারপত্র।
  • ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

ক্লিনিক অথবা ব্যক্তিগত হাসপাতালের জন্য: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন।

লিমিটেড কোম্পানির জন্য:

  • মেরোরেন্ডাম অব আর্টিকেল।
  • সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন।

ছাপাখানা ও আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে: ডেপুটি কমিশনারের অনুমতি।

রিক্রুটিং এজেন্সি: মানবসম্পদ রপ্তানি ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স।

অস্ত্র ও গোলাবারুদের ক্ষেত্রে: অস্ত্রের লাইসেন্স।

ঔষধ ও মাদকদ্রব্যের জন্য: ড্রাগ লাইসেন্স।

ট্রাভেলিং এজেন্সির জন্য: সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি।

প্রতিষ্ঠান প্রেস বা পত্রিকা: ডিক্লারেশন পত্র দরখাস্তের সাথে প্রদান করতে হয়।

কারখানা, সিএনজি (গ্যাস) স্টেশন, দাহ্য পদার্থের ব্যবসার জন্য: বিস্ফোরক অধিদপ্তর/ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র/অনুমতি পত্র প্রদান করতে হবে।

  • সকলক্ষেত্রে দরখাস্তের সাথে আবেদনকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগতে পারে।
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থানটি নিজের হলে সিটি কর্পোরেশনের হালনাগাদ ট্যাক্সের রশিদ এবং ভাড়ায় হলে ভাড়ার চুক্তিপত্র বা রশিদ দরখাস্তের সাথে প্রদান করতে হয়।

লাইসেন্স নবায়ন:
যারা লাইসেন্স নবায়ন করতে চান তারা সাধারণত দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তার কাছে যাবেন। তিনিই ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করে নবায়নকৃত লাইসেন্স প্রদান করবেন। আঞ্চলিক কর্মকর্তার নিকট যেগুলো নিয়ে যাবেন:

  • পূর্বের ট্রেড লাইসেন্স।
  • নতুন লাইসেন্সের সমপরিমাণ নবায়ন ফি। এই ফি পূর্বের মতই লাইসেন্স ফর্মে উল্লেখিত ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

আবেদন ফর্ম: অনেক নিয়মনীতি জানা হল। এখন প্রয়োজন আবেদন ফর্ম। আবেদনপত্রের ফর্মটি পেতে এই লিঙ্কটি ভিজিট করুন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি, ছবি ইত্যাদি হাতের কাছেই রাখবেন। তাহলে দ্রুত ও সহজেই লাইসেন্সটি পেয়ে যাবেন।

তথ্যসূত্র: www.bangladesh.gov.bd


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।