সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

bpvet-community.jpg

অবাক তথ্য জানেন কি মানুষ ব্যাতীত অন্য প্রাণীরাও আত্মহত্যা করে

কি, অবাক হচ্ছেন? অবাক হলেও এ কথাই সত্য যে তারা নিজ স্বজাতির জনসংখ্যার হার সীমাবদ্ধ রাখার জন্য আত্মহত্যা করে থাকে।

কখনো কি আপনার মনে প্রশ্ন জেগেছে যে মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণী আত্মহত্যা করে কিনা? যদি করেই তবে কেন? তাদের মনেও কি হতাশার জন্ম নেয়? অবাক করা তথ্য এবার জানুন তাহলে।

১৯৫৮ সালে ডিজনি কতৃক প্রকাশিত হয় এক ডুকুমেন্টরি। "White Wilderness" নামক এই ডুকুমেন্টরিতে বলা হয়, লেমিং নামক প্রানীরা নিজ স্বজাতির মাঝে জনসংখ্যার বিস্ফোরণ রোধ করার জন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কি, অবাক হচ্ছেন? অবাক হলেও এ কথাই সত্য যে তারা নিজ স্বজাতির জনসংখ্যার হার সীমাবদ্ধ রাখার জন্য আত্মহত্যা করে থাকে।

সাধারণত, দৌড়োতে থাকা পশুর পালে ঝাঁপ দিয়ে এবং সমুদ্র উপকূলীয় উঁচু পাহাড় থেকে ঝাপ দেয়ার মাধ্যমে তারা আত্মহননের কাজটি করে থাকে। যার ফলে, তাদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের মাঝে একটি পোক্ত ধারণা হয়ে যায় যে প্রাণীজগতে আত্মহত্যার অস্তিত্ব রয়েছে এবং এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়।বাস্তবিক পক্ষে যা মোটেও সত্য নয়।

মেরিয়্যাম ওয়েবস্টার এর মতে, আত্মহত্যা হচ্ছে স্বেচ্ছায় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন গ্রহন করার দৃষ্টান্ত বা আইন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ ছাড়া অন্য প্রানীরা এ ধরনের কাজ করেনা। যাইহোক, প্রানীরা আত্মহত্যা না ও করে তবে, কোন প্রানীর রহস্যজনক মৃত্যুকে অবশ্যই অনুকরণীয় আত্মহত্যার অংশ বলা চলে।

আপনি যদি কখন ও কোন জলজ প্রানীকে তার জলজ পরিবেশের বাইরে আবিষ্কার করেন তবে তার আনকোরা চোখের দৃষ্টিতে আত্মঘাতীর মত ভয়াবহ ব্যাপার দেখতে পাবেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনেক প্রানী যেমন তিমি অনেক সময় অসুস্থতা, আঘাত, বৃদ্ধ বয়স ইত্যাদি গৌন ক্ষতির কারনে, শিকারীর চোখ এড়াতে সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি অগভীর জলে অবস্থান করে।

আরো কিছু অবাক করা তথ্য-
আত্মহত্যার ব্যাপারে আরেকটি উল্লেখযোগ্য আচরণ হচ্ছে, "Self - Injurious Behavior" বা SIB. এই আচরণের কারন যদিও এক এক ক্ষেত্রে এক এক রকম তবে ধারণা করা হয় যে, সম্ভাব্য কারনগুলোর মাঝে চাপ, বিষণ্ণতা, রোগ, ভয়, অপুষ্টি, একঘেয়ামি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উদাহরণস্বরূপ, পাখিরা মাঝে মাঝে তাদের দেহ থেকে ঠুকরে ঠুকরে পালক তুলে ফেলে, এমনকি মাঝে মাঝে যতটুকু সম্ভব পুরো দেহেরই পালক তুলে ফেলে। অতঃপর নিজের দেহের মাংসতে ঠোকর দেয়ার মত ভয়াবহ কাজও করে থাকে! 

বনমানুষ নিজেদের শরীরে নিজেরা কামড় দিয়ে থাকে। কুকুর এবং বিড়ালরা অত্যাধিক পরাজয়ের অনুশীলন করে থাকে। ধারনা করা হয়, এই কাজটি তাদের ধৈর্য্য শক্তি বাড়িয়ে তোলে এবং যে কোন পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

কিন্তু মাঝে মাঝে এই কাজের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যা প্রানীর স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে! তাই, প্রাথমিক অবস্থায়ই অভ্যন্তরীন চেক আপ করে এদের চিকিৎসা দেয়া উচিৎ নতুবা তীব্রতা এক সময় বৃদ্ধি পেয়ে তারা আত্মঘাতী হয়ে উঠে এবং মৃত্যুমুখে পতিত হয়।

সত্যিই কি অদ্ভুত আমাদের এই প্রাণীজগৎ। মাঝে মাঝে অবাকই হতে হয় বৈ কি।

তথ্যসূত্র- How Staff Works


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।