সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

pencil-to-draw-map-town-45762937.jpg

লক্ষ্য নির্ধারণটা যখন জরুরী কাঠ পেন্সিল দিয়ে আঁকি জীবনের মানচিত্র

‘লক্ষ্যহীন জীবন, মাঝিবিহীন নৌকার মত’ একথাটি সম্ভবত আমাদের প্রত্যেকেরই জানা। সত্যিই জীবনে একটা কাংখিত জায়গায় পৌঁছানোর জন্য লক্ষ্য নির্ধারণটা খুব জরুরী। তবে ভুলে থাকলে হবেনা, লক্ষ্য নির্ধারণে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাবই ওলট-পালট করে দিতে পারে আপনার গোটা  জীবনকে।

সবকিছু আপাত ঠিকঠাক থাকলেও মানুষ সবসময় তার কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না।
যেমন ধরুন সাগরে একটা নির্দিষ্ট তীরকে লক্ষ্য করে আপনি নৌকা ভাসালেন; সবকিছু ঠিকঠাক আছে, নৌকার পাল তুলে দিয়েছেন, ঠিকঠাক মত বৈঠা চালাচ্ছেন, শক্ত হাতে হাল ও ধরে আছেন।

তীরের যখন খুব কাছাকাছি, দেখা গেল সাগরে ওঠল তুমূল ঝড়। ঝড়ের গতিপথ আপনার কাংখিত তীরের বিপরীত দিকে। এক্ষেত্রে আপনি যদি নৌকার মুখ তীরের দিকেই ঘুরিয়ে রাখেন তাহলে নৌকা যাবে উল্টে। তীরে পৌছানোর বদলে ঘটে যাবে শলীল সমাধি।
এক্ষেত্রে ঝড়ের গতিপথ যে দিকে সে দিকেই  নৌকা ভাসিয়ে দিতেন দেখা যেত কাংখিত তীরে না পৌঁছতে পারলেও অন্য কোন তীরে পৌঁছে জীবনটা বাঁচাতে পারতেন।

মানুষের জীবনটাও মহাসমুদ্রের মত বিস্তৃত আর রহস্যময়। বলা-কওয়া ছাড়া যেকোন মুহুর্তে জীবন দরিয়া উঠতে পারে উথাল-পাথাল ঢেউ।

একটা কথা আছেনা- মানুষ চায় এক হয় আরেক! 

একথার মানে এ নয়, কাংখিত লক্ষ্যার্জনে দৃঢ়তার প্রয়োজন নেই। যথেষ্টই দৃঢ় থাকতে হবে, তবে মেনে নিতে হবে আকস্মিকতাকেও। অর্থাৎ জীবনের একটা মানচিত্র আঁকা যখন আঁকতেই হবে তখন সেই মানচিত্রটা কাঠপেন্সিল দিয়ে আঁকাই ভাল। এতে আপনি যে সুবিধা পাবেন সেটা হল, জীবনের পথে চলতে চলতে যদি কখনো হোঁচট খান কিংবা ভুল প্রমানিত হয় আপনার মানচিত্রের কোন অংশ- সহজেই ইরেজার দিয়ে মুছে নতুন করে আঁকতে পারবেন নতুন একটা অংশ। কিন্তু কলম দিয়ে আঁকলে কোথায় পাবেন সে সুযোগ!

তখন সামনে একটাই পথ থাকবেÑ মানচিত্রটাই ছিঁড়ে ফেলা। আর এর অর্থ কি দাঁড়ায় বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই!
সুতরাং কাঠপেন্সিল দিয়েই আঁকুন জীবনের মানচিত্র, কখনই কলম দিয়ে নয়।

হাসান আল মাহমুদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।