সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

rafqazad.jpg

শোক সংবাদ না ফেরার দেশে কবি রফিক আজাদ

শনিবার বেলা ২টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালেেয় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি....)

“ভাত দে হারামজাদা তা না হলে মানচিত্র খাবো” জনপ্রিয় এই পংক্তির রচয়িতা কবি, মুক্তিযোদ্ধা ও সম্পাদক রফিক আজাদ আমাদের ছেড়ে গেলেন না ফেরার দেশে। শনিবার বেলা ২টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালেেয় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি....)। মৃত্যুকালে  তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তার মৃতদেহ সোমবার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হতে পারে বলে জানা যায়।  

জন্ম: কবি রফিক আজাদ ১৯৪১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার গুণী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম সলিম খান ও মায়ের নাম হচ্ছে রাবেয়া খান। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে ছোট। তাঁর আরেক নাম জীবন।

পড়াশোনা: ভাষার প্রতি কবির প্রচণ্ড ভালবাসা ছিল। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদের মিছিলে যান। ১৯৫৬ সালে বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন পি.সি সরকারের কাছে যাদু শেখার উদ্দেশ্যে। কিশোর বয়সে দেলু নামক এক ব্যক্তির কাছে লাঠি খেলার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

শৈশব-কৈশোরের বন্ধু ছিল পাশের মনিদহ গ্রামের নিম্নশ্রেণীর হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়ে। তিনি অস্টম শ্রেণী পাশ করেছিলেন সাধুটী ইংলিশ স্কুল থেকে। কালিহাতি রামগতি শ্রীগোবিন্দ স্কুলে ভর্তি হন নবম শ্রেণীতে। বাড়ি ছেড়ে তখন কবি থাকতেন কালিহাতিতে।

কোন প্রকার পারিবারিক বিধিনিষেধ না থাকায় খুবই আড্ডায় সময় কাটাতেন। তবে বিভিন্ন সাহিত্যিকের সাহিত্য পাঠের  আগ্রহ তিনি ছাড়েননি। যাইহোক নবম শ্রেণীতে পাশ করতে পারেননি। পরবর্তীতে ব্রাহ্মশাসন হাই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেছিলেন।

কর্মজীবন: ১৯৭২-১৯৮৪ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমী প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা উত্তরাধিকার এর সম্পাদক ছিলেন। নাম প্রকাশ না করে সম্পাদনা করেন রোববার পত্রিকাতেও। তিনি টাঙ্গাইলের মওলানা মুহম্মদ আলী কলেজে বাংলার লেকচারার ছিলেন। বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন, উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রেও কাজ করেছেন তিনি। ১৯৭১ সালে দেশমাতৃকাকে রক্ষার টানে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কাদেরীয়া বাহিনীতে যোগ দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেন।

গ্রন্থ: রফিক আজাদের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
অসম্ভবের পায়ে, সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে, চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া, পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি, প্রেমের কবিতাসমগ্র, বর্ষণে আনন্দে যাও মানুষের কাছে, বিরিশিরি পর্ব, রফিক আজাদ শ্রেষ্ঠকবিতা, রফিক আজাদ কবিতা সমগ্র, হৃদয়ের কী বা দোষ, কোনো খেদ নেই, প্রিয় শাড়িগুলো ইত্যাদি।

পুরস্কার ও সন্মাননা: কবি তার জীবদ্দশায় অনেকগুলো পুরস্কার ও সন্মাননা পেয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে:
বাংলা একাডমেী সাহত্যি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ুন কবরি স্মৃতি (লখেক শবিরি) পুরস্কার (১৯৭৭), আলাওল পুরস্কার (১৯৮১), কবিতালাপ পুরস্কার (১৯৭৯), ব্যাংক পুরস্কার (১৯৮২), সুহৃদ সাহত্যি পুরস্কার (১৯৮৯), কবি আহসান হাবীব পুরস্কার (১৯৯১), কবি হাসান হাফজিুর রহমান পুরস্কার (১৯৯৬), বিশিষ্ট মুক্তযিোদ্ধা সম্মাননা (১৯৯৭), একুশে পদক, (২০১৩)। 

সূত্র: উইকিপিডিয়া, যুগান্তর, প্রথম আলো।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।