সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

women-sunset-silhouette-HD-Wallpapers-1024x768.jpg

নারী দিবস নারী আজও পন্য হয়ে টিকে রয়েছে সমাজে

যদি উচ্চতা বা গায়ের রঙের জন্যই একজন মানুষের স্বপ্ন ভেঙে যায় তবে উচ্চতা, রঙে কেন বৈষম্য করলে হে সৃষ্টিকর্তা?

বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলে? বাহ দারুণ। কিন্তু!

কি নিয়ে পড়ছো তুমি? ও আচ্ছা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং? বাহ বেশ। দোয়া করি ইঞ্জিনিয়ার হও কিন্তু মা তুমি যে একটু বেটে। উচ্চতাটা বেমানান খুব।

কি বললে? বেশ ভালো ছবি আঁকতে পারো। রঙের ছড়াছড়ি তবে তোমার গায়ের রঙটা যে খুব ময়লা! একটু ফর্সা না হলে কি আর এই যুগে চলে বল!

লিখতে জানো? বই লিখেছো! লেখিকা হবে? আহা, কি গুনী মেয়ে! কিন্তু স্বাস্থ্যটা একটু বেশিই তোমার। আরেকটু চিকন না হলে কি আর লোকের মনে ধরবে?!

ভাবী, আপনার মেয়েটা বেশ লক্ষি। ভালোই গুন আছে, শিক্ষাও আছে। তবে কি আমাদের বংশেরও তো একটা ধারা আছে! ছেলের বউকে যদি দশজনের সামনে না আনতে পারি তবে শিক্ষা আর গুন দিয়ে কি হবে বলুন!

এই মেয়ে, নিজের গায়ের রঙ, উচ্চতা, স্বাস্থ্য এসব নিয়ে এত মন খারাপ করে থাকো কেন? সবই তো আল্লাহর ইচ্ছা, তবে হ্যা তোমার উচ্চতাটা আসলেই একটু কম।

হে সমাজ,
আমি তো নিজের যা আছে তা নিয়েই খুশী থাকতে চাই। আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা, আমার প্রতিভা, আমার শক্তি দিয়ে ঢেকে দিতে চাই উচ্চতা, গায়ের রঙ আর স্বাস্থ্যের কলঙ্ক। তবে তোমরা কেন বারবার আমায় বুঝিয়ে দাও শারীরিক গঠনটাই আসল?

আমি তো আমার গায়ের কালো রঙে ঝলসে দিতে চেয়েছি কাপুরুষদের মুখ। তবে তুমি কেন বারবার বল সাত দিনে ফর্সা হতে হবে, ফর্সা না হলে বিয়ে হবেনা, ফর্সা হলে বংশের মান রক্ষা পাবে।

আমি তো এই বামন দেহ নিয়েই আকাশ ছুঁতে চেয়েছি কারন আমি ভেবেছি আকাশ ছুঁতে উচ্চতা নয় বুদ্ধি লাগে। তবে তুমি কেন আমায় বুঝিয়েছো বামন হয়ে আকাশ পানে হাত বাড়ানো মানা?

আমি তো চেয়েছি এই মোটা শরীরে বহু ক্রোশ পথ পাড়ি দিতে। ভেবেছি পথ পাড়ি দিতে চাই সাহস, স্লিম ফিগার নয়। তবে তুমি কেন বারবার বুঝিয়েছো জিরো ফিগার না হলেই নয়!

সবই তো ঠিক আছে তবে কথার শেষে কেন কিন্তু থেকে যায়? জবাব দাও সমাজ
একটা মেয়ের উচ্চতা, গায়ের রঙ, স্বাস্থ্য কেন তার পরিচয় হয়? জবাব দাও সমাজ?

যদি উচ্চতা বা গায়ের রঙের জন্যই একজন মানুষের স্বপ্ন ভেঙে যায় তবে উচ্চতা, রঙে কেন বৈষম্য করলে হে সৃষ্টিকর্তা?

-উপরের লেখাটা আমার নিজেরই লেখা। সমাজের সব নারীদের প্রতিনিধি হিসেবেই লেখা। আজ নারী দিবস। কি লিখবো নারীকে নিয়ে? যে সমাজে আজো নারীরা পন্য হিসেবেই বিবেচিত হয়, সেখানে সুমধুর কথায় আর্টিকেল লিখেই বা কি হবে?

নারীর অর্জনের দুটি খবর পেলে, নারী ধর্ষনের চারটি খবর চোখে পড়ে। যৌতুকের দাবিতে আজও প্রাণ হারায় শত অসহায় নারী. আমি কি লিখবো নারীদের নিয়ে যেখানে প্রতিটা দিন চলতে ফিরতে, উঠতে বসতে নারীকে হতে হয় লাঞ্চিত।

নারী এখন স্বাধীন হয়েছে। মুক্ত হয়েছে। সেসব নিয়ে ভাবতে গেলেই দেখি রাস্তায় নারীকে গাড়ী বা সাইকেল চালাতে দেখে হা হয়ে তাকিয়ে থাকে আশাপাশের সবাই। যেন বড্ড বেমানান এসব। নারী অফিসে ভালো অবস্থানে গেলেই শুনতে হয় জঘন্য কথা যে বসকে খুশি করেছে সে। নারীকে আমি খুঁজে পানি শহরের বিলবোর্ডে। যেখানে কেবল নারীর শরীর বিক্রি হয়।

জানি কথাটা বেমানান। শরীর বিক্রি করে পতিতা, কোন মডেল নয়। কিন্তু বিলবোর্ডে যে কোন শ্যামবালিকা আমার চোখে পড়ে না। কম উচ্চতার কোন নারী যে সেখানে জায়গা পায়না। তখন শরীরের কথাটা আপনা আপনিই মুখ ফসকে চলে আসে।

নারী দিবসকে ঘিরে সেমিনার হয়। আনন্দ উৎসব হয়। ওসব আমাকে টানেনা। যেদিন খবরে কোন শিশুর ধর্ষনের খবর থাকবে না। যেদিন কোন নারীকে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারনে জীবন দিতে হবেনা, উৎযাপনের আয়োজনটা নাহয় সেদিনের জন্যই তোলা থাক। 


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।