সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

drumstick.JPG

সবজি পরিচিতি পুষ্টিগুণে ভরা সজিনা

এর সবুজ পাতায় প্রচুর ক্যালসিয়াম, লৌহ, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক, সেলেনিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। লৌহ রক্তস্বল্পতা দূর করে, ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনের জন্য প্রয়োজন।

সজিনা গাছ একটি গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের উদ্ভিদ। সজিনাকে ইংরেজিতে বলে ড্রাম স্টিক। গাছের ফল দেখতে ঢোল পেটানো লাঠির ন্যায় বলেই এমন নামকরণ। বৈজ্ঞানিক নাম: Moringa oleifera

সজিনা খরা সহিষ্ণু, মাঝারি আকারের, চির সবুজ বৃক্ষ। গাছে দুধের সরের ন্যায় ছোট ছোট সাদা ফুল ধরে। ফুল থেকে ৬-১৮ ইঞ্চি লম্বা পড জাতীয় ফল ধরে।

সাধারণত সবুজ পাতা, ফল, ফুল রান্না করে খাওয়া যায়। ফলে প্রচুর খনিজ উপাদান রয়েছে।

ডাল ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলেও আমাদের দেশে সাধারণত ডালের মাধ্যমে বা অঙ্গজ জননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করানো হয়। গ্রীষ্মকাল বিশেষত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত ডাল রোপণের উপযুক্ত সময়। বাণিজ্যিকভাবে তেমন চাষাবাদ হয়না বলে বসতবাড়ির আশেপাশেই ডাল লাগানো যায়।

সজিনার রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা। এখন জানব সেগুলো:

  • সজিনার সবুজ পাতায় প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। যা বিরুৎ এবং সবুজপত্রযুক্ত উদ্ভিদ জগতের মাঝে ব্যতিক্রম! ১০০ গ্রাম সবুজ কাঁচা পাতায় প্রায় ৯.৮ গ্রাম প্রোটিন বিদ্যমান। শুকনো ও চূর্ণ পাতায় প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো এসিড রয়েছে।
  • পড এবং বীজে রয়েছে অলেয়িক এসিড যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। তৈলজাতীয় উদ্ভিদের বিকল্প হিসেবে এশিয়া এবং আফ্রিকার খরা প্রবণ অঞ্চলে এ গাছ লাগানো উচিৎ।
  • সবুজ পাতায় প্রচুর ভিটামিন এ রয়েছে। ১০০ গ্রাম সবুজ পাতায় ৭৫৬৪ আইইউ ভিটামিন এ বিদ্যমান। ভিটামিন এ ফ্যাটে দ্রবীভূত হয়। যা ত্বক সুস্থ রাখে, চোখের জ্যোতি ভাল রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • সজিনার পড এবং পাতা ভিটামিন-সি এর ভাল উৎস। ১০০ গ্রাম পড এ ১৪৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন-সি রয়েছে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও শরীর থেকে ক্ষতিকর অক্সিজেন মুক্ত ফ্রি-রেডিকেল দূর করে।
  • সবুজ পাতা এবং পডে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এতে রয়েছে ফোলেট, ভিটামিন বি-৬, থায়ামিন, রিভোফ্লাভিন, প্যানটোথেনিক এসিড এবং নিয়াসিন। এগুলো শর্করা, প্রোটিন এবং চর্বি হজমে সহায়তা করে।
  • এছাড়াও এর সবুজ পাতায় প্রচুর ক্যালসিয়াম, লৌহ, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক, সেলেনিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। লৌহ রক্তস্বল্পতা দূর করে, ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনের জন্য প্রয়োজন। নতুন চুল গজাতে, শুক্রাণু তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে এবং ত্বকের জন্য প্রয়োজন জিংক।

সতর্কতা: 

  • সজিনা গাছের মূলে স্পাইরোসিন নামক অ্যালকালয়েড রয়েছে। যা নিউরো-প্যারালাইটিক টক্সিন হিসেবে কাজ করে!
  • পুকুরে কখনও সজিনা গাছের ডাল, বাকল, মূল ইত্যাদি ফেলবেন না। পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে মাছ মারা যেতে পারে!
  • যদি প্রচুর পরিমাণ সবুজ পাতা শাক হিসেবে খাওয়া হয় তবে পেটে গ্যাস জমে পেট ফাঁপা হতে পারে। এটির ল্যাক্সাটিভ গুণ থাকায় পেট খারাপ বা ডায়রিয়াও হতে পারে।

সজিনা গাছ খুব সহজে এবং অল্প খরচেই চাষাবাদ করা যায়। তথাপিও বাণিজ্যিকভাবে এর চাষাবাদ এখনও শুরু হয়নি। গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এই গাছটির দেখা মেলে। তবে এর পুষ্টিমান, স্বাদ ও চাষাবাদ খরচ কম হওয়ায় যে কেউই খুব সহজেই চাষাবাদ করে লাভবান হতে পারবেন।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।