সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

TedK.jpg

শুভ জন্মদিন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এডওয়ার্ড কেনেডি

তিনি “টেস্টিমনি অব সিক্সটি”তে প্রকাশিত “মোজাইক অব মিজারি” শীর্ষক বিবৃতিতে শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের করুণ চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর বিবৃতিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের দায়ভার নেয়ার আহ্বান জানান।

১৯৭১ সালে নয় মাস ধরে চলা স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নেয়। ঐ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ঢাকায় ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। হত্যাকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি সাধারণ নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশসহ সকলশ্রেণী-পেশার লোক। পাকিস্তানি গণহত্যার কারণে প্রায় ১ কোটি মানুষ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে অভিহিত করে পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাত গুটিয়ে রাখেন। তারা পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেন। যখন মার্কিন সরকার পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন সেই সময়েই মার্কিন সেনেটর হিসেবে কর্মরত, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু বলে খ্যাত এক ব্যক্তি মার্কিন রাষ্ট্রনীতির বাইরে দাঁড়িয়ে আমাদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। সেই মহান ব্যক্তি হচ্ছেন এডওয়ার্ড কেনেডি। যিনি টেড কেনেডি নামেই অধিক পরিচিত।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থিত শরণার্থী শিবিরগুলো ঘুরে বাংলাদেশের শরণার্থীদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র বিশ্ববাসীর দৃষ্টিতে এনেছিলেন এডওয়ার্ড কেনেডি। এডওয়ার্ড জানিয়েছিলেন পূর্ববঙ্গ তথা বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। এ মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আর দুষ্কর্মে সহায়তা করার মাঝে কোন পার্থক্য নেই। তিনি এর কড়া সমালোচনা করেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ ও যাবতীয় অর্থ সহায়তার বিরোধীতা করেন।

তিনি “টেস্টিমনি অব সিক্সটি”তে প্রকাশিত “মোজাইক অব মিজারি” শীর্ষক বিবৃতিতে শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের করুণ চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর বিবৃতিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের দায়ভার নেয়ার আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি দুদিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া ভাষণে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সকল প্রকার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আমৃত্যু তৎপর ছিলেন। ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁর শুভ জন্মদিন।

১৯৩২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বোস্টন, ম্যাসাচুসেট্‌স এ জন্মগ্রহণ করেন। এডওয়ার্ড কোটিপতি ব্যবসায়ী জোসেফ কেনেডি ও রোজের ছোট সন্তান ছিলেন। তিনি ছিলেন জন এফ. কেনেডি এবং রবার্ট কেনেডির ছোট ভাই। ৩০ বছর বয়সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটর নির্বাচিত হয়ে সারাজীবন কংগ্রেসের হয়ে কাজ করেছিলেন। 

সেনেটের সিংহ বা লায়ন অফ সেনেট নামে খ্যাত ডেমোক্রেট টেড কেনেডি বা এডওয়ার্ড কেনেডি কংগ্রেসের হয়ে ৯ বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সফল সেনেটর। ২০০৬ সালে টাইমস ম্যাগাজিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠ ১০ জন সেনেটরের একজন বলে অভিহিত করেন। কেনেডি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে প্রগতিশীলতা ও অসাম্প্রদায়িকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি ২৫ আগস্ট, ২০০৯ সালে মধ্যরাতের কিছুটা পূর্বে ক্যান্সারের কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

এডওয়ার্ড আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। তাঁর ঋণ শোধ করার সাধ্য আমাদের নেই। আজ তাঁর জন্মদিনে তাকে পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। শুভ জন্মদিন বন্ধু এডওয়ার্ড কেনেডি।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।