সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

2015_10_16_17_42_36_zUePEvzFjDsJI5tKMu1GOChgGJtTVs_original.jpg

চলচ্চিত্র সমালোচনা 'বেকাস'-গাধার পিঠে করে আমেরিকার পথে

যুদ্ধ এ ছবির মূল উপজীব্য নয় তবুও পুরো ছবি জুড়ে যুদ্ধ এসে গেছে অনিবার্য প্রেক্ষিতেই। কেননা যুদ্ধের ক্ষতই যে বয়ে বেড়াচ্ছে ছবির দুই প্রধান চরিত্র। আর তাদেরকেই অনুসরণ করেছে কারজানের ক্যামেরা

সিনেমা কখনও কখনও হয়ে ওঠে বিশ্ব রাজনীতির ভাষা। সমাজের পালাবদল, মানুষের সংগ্রাম,বেঁচে থাকা আর স্বপ্নের বয়ান বন্দি হয় সেলুলয়েডের ফিতায়।
কারজান কাদেরের 'বেকাস' কে তাই কেবল দানা আর যানা নামের দুই অনাথের শিশু সুলভ অদ্ভুত ফ্যান্টাসির মাঝেই আটকে রাখা যায়নি। সেটি হয়ে উঠেছে গলফ যুদ্ধ পরবর্তী ইরাকের কুর্দী জনপদের মানুষের সংকট ও দুর্দশার প্রতিচিত্র।
যুদ্ধ এ ছবির মূল উপজীব্য নয় তবুও পুরো ছবি জুড়ে যুদ্ধ এসে গেছে অনিবার্য প্রেক্ষিতেই। কেননা যুদ্ধের ক্ষতই যে বয়ে বেড়াচ্ছে ছবির দুই প্রধান চরিত্র। আর তাদেরকেই অনুসরণ করেছে কারজানের ক্যামেরা।দানার বয়স দশ আর যানার সাত।
এ বয়সে মানচিত্র কিংবা সীমান্তের কাঁটা তারের মতো জটিল সমীকরণগুলো বোঝার কথা না তাদের। তাই ওরা আমেরিকা খুঁজতে থাকে কাগজের পাতায়। স্বপ্নের শহর আমেরিকা। সুপারম্যানের শহর আমেরিকা। এই সুপারম্যানের সাথে তাদের পরিচয় হয়েছিল চুরি করে বায়স্কোপ দেখতে গিয়ে।

তাদের মাথায় ভূত চাপে সুপারম্যানের সাথে দেখা করার। তাদের স্বপ্নের কথাগুলো,না পাওয়ার কথাগুলো বলবে অসীম ক্ষমতাধর সেই সুপারম্যানকে। বলবে তাদের শক্রদের কথা। তাদের ধারণা সুপার ম্যান পৃথিবীর সমস্ত ভালো মানুষদের পক্ষে আর খারাপ মানুষদের শাস্তি দিয়ে থাকে। 

তাই সবার আগে সুপারম্যানের কানে কানে বলা চাই প্রেসিডেন্ট সাদ্দামের কথা। যুদ্ধবাজ সাদ্দামের কারণেই তারা তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে। তাদের বাধ্য করেছে মানুষের জুতো পরিস্কারের মতো কাজে যুক্ত হতে।

একদিন একটা ম্যাপে আমেরিকার দেখাও পেয়ে যায় তারা। দূরত্ব খুব বেশি নয়। কিন্তু লাগবে পাসপোর্ট। পাসপোর্ট অফিসে জানতে পারে দু'জনার প্রয়োজন হবে ১৪০০০ টাকা। 

অর্থাৎ তাদের অন্তত ২৮ হাজার জুতো পরিস্কার করতে হবে। তাই ঈশ্বরের কাছে সাত বছরের যানার সরল প্রার্থনা মানুষের জুতো যেন বেশি বেশি নোংরা হয় এবং তাদের কাছেই সবাই পরিস্কার করে নিতে আসে।

এক সময় তারা সিদ্ধান্ত নেয় হেঁটেই আমেরিকা যাবে। সাথে পেয়ে যায় একটা গাধাকেও। তার পিঠে চড়েই শুরু হয় আমেরিকা যাত্রা। এভাবেই এগুতে থাকে ছবির প্রবাহ। পুরো ছবি জুড়েই অন্য রকম এক ইরাকের স্বাদ পাওয়া যায়। দেখা যায় তার নৈসর্গিক রুপের খানিকটাও।

প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করা শিশু দুটির এক্সপ্রেশন আর অভিনয় রীতিমত তাক লাগানোর মতো। ছবিতে যুদ্ধবাজ সাদ্দামের কথা উঠে এসেছে বেশ সচেতনভাবেই। মানবিক সম্পর্কগুলো বেশ জোরালো ভাবেই ফুঁটে উঠেছে ছবিতে। ভাইয়ের জন্য ভাইয়ের ভালবাসা কিংবা দুই অনাথ শিশুর জন্য বৃদ্ধ  খালিদের ভালোবাসা সবই পেয়েছে অনন্য এক মাত্রা।

হেলিয়ার সাথে দানার প্রেমে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারগুলো বেশ অপ্রাসঙ্গিকেই মনে হয়েছে। মাত্র দশ বছরের একটি কিশোরের এমন আবেগ অতোটা মানান সই মনে হয়নি। পরিচালক কারজান বেশ সূক্ষভাবে সাম্রাজ্যবাদীদের কথাও বলতে চেয়েছেন বলে মনে হতে পারে। বিশেষ করে আমেরিকা নামের একটি স্বপ্নের প্রচারণা সে ইজ্ঞিতেই দেয়। 

এসব কারণে বেকাসকে কেবল আর শিশুতোষ চলচ্চিত্রের সজ্ঞাতেই আটকে রাখা যায়নি। বেকাস হয়ে উঠেছে অনিবার্য এক সমাজ ও সময় বাস্তবতার দলিল। সেই সাথে যুদ্ধ বিরোধী চেতনার অংশটিও নাড়া দেয় অনায়াসেই।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।