সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Bed-Time-Story-Telling.jpg

বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানো গল্প বলবেন কেন?

বাচ্চার সৃজনশীলতা, নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গল্প শোনানো খুবই জরুরী। অন্যথায় পাঠ্যপুস্তক নির্ভর তোতাপাখির সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।

আজ থেকে কয়েক বছর আগেও বাচ্চারা রাতে শুয়ে অধৈর্য হয়ে যেত দাদা-দাদীর কাছ থেকে গল্প, কিচ্ছা-কাহিনী শুনতে। আর আজকাল বাচ্চারা মিডিয়া ও টেকনোলজী নির্ভর হয়ে পড়েছে। আবার বাবা-মা, ভাইবোন থেকে দূরে থাকছে সন্তানরা। সবচেয়ে দূরে থাকছে দাদা-দাদী। তাই বাচ্চাদের আর ঘুম পাড়ানো গল্প শোনা হয়ে ওঠে না। যদিও এই গল্প শোনা শিশুদের জন্য খুবই জরুরী।

চলুন জানা যাক, শোয়ার সময় বাচ্চাদের গল্প শোনানোর উপকারীতা সম্পর্কে কিছু কথা:

শব্দকোষ জানবে:
গল্প শুনতে শুনতে বাচ্চা নতুন নতুন শব্দ সম্পর্কে জানতে পারে। আবার যখন গল্পের মাঝখানে প্রশ্ন করে থাকে, আপনি তখন উদাহরণসহ তার উত্তর দিয়ে দেন। এভাবে শেখা উত্তর ও শব্দ শুনে বাচ্চা ঘুমিয়ে যায়। ফলে শব্দগুলো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মনে থাকে।

সৃজনশীলতা বৃদ্ধি:
কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সামনে বসে গল্প শুনলে চোখের উপর চাপ পড়ে। ডিজিটাল মাধ্যম বাচ্চার কল্পনাশক্তি বন্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু যখন দাদা-দাদীর কাছে গল্প শোনে তখন বাচ্চা তার কল্পনার সাগরে ডুবে যায়। ময়ুরপঙ্খী নৌকায় উঠে ভেসে যায় দূর অজানায়! ভাবতে থাকে বিশাল সমুদ্রের বুক নিয়ে, নদী কিংবা সাগর নিয়ে। এভাবেই তার সৃজনশীলতা বাড়তে থাকে।

সংস্কৃতির সাথে সংযোগ:
আজকাল বাচ্চারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করছে। এতে স্কুল ও বন্ধুদের সাথে নিজের ভাষায় খুব কমই কথা বলার সুযোগ পায়। ফলে নিজের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে না। গল্প শোনালে নিজের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ে। এতে মাতৃভাষার প্রতি প্রেম বৃদ্ধি পায় ও গ্রাম্য গল্প শোনায় রুচিবোধ জাগে।

আফসোস! আজকাল শহুরে ছেলেমেয়েদের কাছে ঠাকুমার ঝুলির স্থান হয় না। চাঁদের বুড়ি আবার কে?

বাচ্চার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি:
গল্প শোনানো খুবই সহজ। কিন্তু এই সহজ কাজটাই সন্তানের সাথে আপনার সম্পর্ক বৃদ্ধি করে।

দ্রুত শেখার ক্ষমতা:
গল্প শোনার সময় বাচ্চা প্রশ্ন করে থাকে। এতে তার প্রশ্ন করার অভ্যাস তৈরি হয়। সেই সাথে চিন্তা-চেতনা বিকশিত হয়। এভাবে বাচ্চা দ্রুত শেখার ক্ষমতা লাভ করে।

আজ রাজা নেই, রাজ্য নেই। রূপকথার দৈত্য-দানব নেই। ভিনদেশী সংস্কৃতির চাপ, একক পরিবারের চিন্তা-চেতনায় স্থান পাচ্ছে না দাদা-দাদী আর সেকেলে হয়েছে পঙ্কীরাজ ঘোড়া।

কিন্তু বাচ্চার সৃজনশীলতা, নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গল্প শোনানো খুবই জরুরী। অন্যথায় পাঠ্যপুস্তক নির্ভর তোতাপাখির সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। আবার সৃজনশীলতার অভাবে শেক্‌সপিয়রের বই পড়ে নিজেকে বড় পণ্ডিত মনে করতে থাকবে।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।