সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

taramon Bibi.png

সাহসী মানুষ বীর প্রতীকের খোঁজে

যে বয়সে যুদ্ধ শব্দটির মানেই বোঝার কথা নয়,ভেলা ভাসানো আর ঘুড়ি ওড়ানোর সেই বয়সেই তার দেশপ্রেম ও বীরত্ব গাঁথার বর্ণনা শুনলে গাঁ শিউরে ওঠে।

মুক্তির মন্দির সোপান তলে; কত প্রাণ হলো বলিদান, লখো আছে অশ্রুজলে। কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা, বন্দীশালার ওই শিকল ভাঙা।
বন্দিশালার ওই শিকল ভাঙতে ও দেশকে পরাধীনতার বৃত্ত থেকে মুক্ত করতে কত ত্যাগ ও আত্মাহুতি! বাংলাদেশের স্বাধীনতা লক্ষ প্রাণের দান। যারা জীবন বাজি রেখে এনে দিয়েছেন এ দেশের লাল সবুজের পতাকা আর  স্বাধীনতা তারা দেশের সুর্য সন্তান।
দেশ মাতৃকার তেমনি এক সন্তান বীর প্রতীক তারামন বিবি। কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার কাচারি পাড়া। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ব্রাহ্মপুত্র নদ। একটা হলুদ রঙ করা টিনশেডের বাড়ি। বাড়িতে ঢোকার মুখেই একটি বড় আকারের আঁকা ছবি।
রাইফেল হাতে এক অসীম সাহসী নারীর ছবি। আমরা ফিরে যাই সেই রণাজ্ঞনের দিনগুলিতে। ১৪ বছর বয়সী এক অসীম সাহসী যোদ্ধার স্টেইনগান এক এক করে ঝাঁঝরা করছে শক্রুসেনাদের। আর জয় বাংলা বলে গর্জে উঠছে মুক্তিযোদ্ধাদের শিবির।
এই কিংবদন্তী যোদ্ধার নাম তারামন বিবি। আমাদের 'বীর প্রতীক'। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ যে দু'জন নারী যোদ্ধা বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন তাদেরই একজন তিনি। ১৯৭১ সালের গৌরব উজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধে দেশ মাতৃকার জন্যে জীবন বাজি রেখে পুরুষ যোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তারামন বিবি।
যে বয়সে যুদ্ধ শব্দটির মানেই বোঝার কথা নয়,ভেলা ভাসানো আর ঘুড়ি ওড়ানোর সেই বয়সেই তার দেশপ্রেম ও বীরত্ব গাঁথার বর্ণনা শুনলে গাঁ শিউরে ওঠে।
তেমনি একটি যুদ্ধকালীন বর্ণনা ও সাহসের গল্প ছিল এমন তখন মাঝদুপুর। সহযোদ্ধারা সব দুপুরের খাবার খেতে ব্যস্ত।কিন্তু শক্রুরা যে-কোন সময় আক্রমণ করতে পারে। তাই সাবধান থাকতে হবে মুক্তিযোদ্ধাদের।
তারামনের কাঁধে পড়লো আশেপাশে লক্ষ রাখার জন্য। হাতে একটা দূরবীন নিয়ে তারামন বিবি উঠে পড়েন যোদ্ধা শিবিরের পাশের একটি সুপারি গাছে।
হঠাৎ দূরবীনে ধরা পড়ে পাক-বাহিনীর গানবোট।সঙ্গে সঙ্গে কমান্ডারকে খবরটি পৌঁছে দিলেন তিনি। সবাই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে প্রস্তুতি নেন  আক্রমণের। তারামন বিবিও বসে থাকলেন না।হাতে তুলে নিলেন রাইফেল।
সহযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকলেন সমান তালে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলল যুদ্ধ।অবশেষে শক্রুপক্ষ পরাজিত হয়ে পিছু হটলো তারামনদের অসীম সাহসিকতার কাছে হার মেনে।
কেবল সম্মুখ যুদ্ধেই নয়  প্রচণ্ড ঝুঁকি শর্তেও গুপ্তচর সেজে সংগ্রহ করেছেন শক্রুদের গোপন খবর। কখনও সাঁতরে গিয়ে কখনও ভেলা ভাসিয়ে পাড়ি দিয়েছেন ব্রহ্মপুত্র। খবর সংগ্রহ করতে প্রতিবন্ধী কিংবা পংগুর মত চলাফেরা করতেও দ্বিধাবোধ করেন নি। কখনও সারা শরীরে কাদা মাটি চক, কালি এমনকি মানুষের বিষ্ঠা লাগিয়ে পাগল সেজেছেন তারামন বিবি।
কিশোরী তারামন বিবিকে  অস্ত্র বিদ্যা শেখান মুহিব হাবিলদার। তিনি তারামন বিবিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য উৎসাহতি করনে। প্রথমে  তারামনকে তাদের  ক্যাম্পে রান্নাবান্নার প্রস্তাব দেন। তারামনরে মা কুলসুম বেওয়া মেয়েকে এই ভয়ঙ্কর কাজে ছেড়ে দিতে  রাজি হননি।
পরে মুহিব হাবিলদার  তারামনকে ধর্ম মেয়ে হিসেবে গ্রহন করেন। দশঘরিয়ায়  মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরে রান্নার কাজে নেমে পড়েন তারামন। কিন্তু পরবর্তীতে তারামনের সাহস ও শক্তির পরচিয় পেয়ে ট তাঁকে অস্ত্র চালনা শেখান।
মুক্তিযুদ্ধের পর দীর্ঘ দিন ছিলেন সবার আড়ালে। ১৯৯৫ সালের আগ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায় নি এই বীর প্রতীককে। সে বছর ময়মনসিংহ এর একজন গবষেক প্রথম খুঁজে বের করেন  তাঁকে।
এরপর তৎকালীন সরকার এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক  ভাবে তারামন বিবির হাতে বীরত্বের পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।