সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Bangabandhu-Novo-Theatre.jpg

ঘুরে আসুন যেমন দেখলাম বঙ্গবন্ধু নভো থিয়েটার

আপনার সন্তান যারা স্কুলে পড়ছে তাদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। তারা অনেক কিছুই শিখতে পারবে। দুই বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের নিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভো থিয়েটার (পূর্বনাম: ভাসানী নভো থিয়েটার) ঢাকা শহরের বিজয় সরনীতে অবস্থিত। এটি ২০০৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়। নভো থিয়েটারের প্লানেটেরিয়ামটিতে নভোমন্ডল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়। এর নকশা করেছিলেন স্থপতি আলী ইমাম।

প্লানেটেরিয়াম ছাড়াও সেখানে রয়েছে রাইড সিমুলেটর, ৫-ডি মুভি থিয়েটার এবং সায়েন্টিফিক এক্সিবিটস গ্যালারি। বিনামূল্যে দেখা যায় পরমাণু শক্তি তথ্য কেন্দ্র।

শত ব্যস্ততার মাঝেও একটু ঘুরে আসলাম বঙ্গবন্ধু নভো থিয়েটার থেকে। থিয়েটারটি দেখতে গিয়ে সবকিছুই যে ভাল লেগেছে তা নয়। কিছুটা মিশ্র অনুভূতি হয়েছে। আর সেই অনুভূতি জানাতেই লিখতে বসা।

নভো থিয়েটার এলাকাটি মোট ৫.৪৬ একর ভূমিতে বিস্তৃত। প্লানেটেরিয়ামের গম্ভুজ যেটা প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়বে। এটাই মূলত প্রধান আকর্ষন আর এজন্যই যেতে পারেন আপনারা।

প্লানেটেরিয়ামটির ভিতরে ত্রি-মাত্রিক পরিবেশে দেখা যায় শীতল নীল আকাশ, পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র ইত্যাদি। কিভাবে পৃথিবীর সৃষ্টি হল, সূর্যের নানাবিধ তথ্য, ব্লাকহোল ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে খুবই ভাল লেগেছে। ১২০ ডিগ্রী কোণে বাঁকানো পর্দায় দেখতে মনে হয় দর্শকরাও আকাশে উড্ডয়ন করছে। মাঝখানে ১ মিনিটের বিরতিসহ ১ ঘন্টা দেখার সুযোগ মেলে। ১৫০ টি প্রজেক্টর সমন্বয়ে তৈরি এই প্লানেটেরিয়ামটি।

প্লানেটেরিয়াম থেকে বের হয়ে প্রবেশ করি ৫-ডি মুভি দেখতে। মাত্র ৬ মিনিট দেখায়। যেটা আমার কাছে খুবই কম সময় মনে হয়েছে। আবার অন্যদিক দিয়ে সময়টা ঠিকই আছে বলতে হবে। কারণ এই শো খুবই ভয়ংকর হয়। দর্শক সরাসরি সেই ভয়ংকর দৃশ্যের সাথে আছেন বলে মনে হবে। ভারতে ৭-ডি মুভি দেখার সুযোগ হয়েছিল। তাই এবার তেমন ভয় লাগেনি ঠিক কিন্তু এই শো শুরুর পর ভয়ে বাচ্চা ও মেয়েদের চিৎকার শুরু হয়ে যায়। পূর্বে কোথাও দেখে না থাকলে এটাও দেখতে পারেন।

সায়েন্টিফিক এক্সিবিটস বা বৈজ্ঞানিক প্রদর্শনী বড়দের তেমন ভাল লাগবে না। আরো উন্নত করা দরকার বলে মনে হয়েছে। তবে বাচ্চাদের ভাল লাগবে। কারণ অধিকাংশ শিক্ষামূলক গেম্‌স বাচ্চাদের পছন্দসই তৈরি। এখানে আমার ভাল লেগেছে ওজন মাপক যন্ত্রটা। আমরা রাস্তার পাশেও ওজন মাপক যন্ত্র দেখতে পাই। সেখানে শুধু পৃথিবীতে ওজন কত তা জানতে পারি। কিন্তু এই প্রদর্শনীর যন্ত্রটায় বাকি গ্রহগুলোতে ওজন কত হবে সেটাও জানা যায়।

রাইড সিমুলেটরটা আমার ভাল লাগেনি। আমার সাথে ছিল শাওন। তারও একই অভিমত। তাই সেটায় না উঠলেই সম্ভবত ভাল হবে। কিন্তু নতুন একটা বিষয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সেটাতেও উঠতে পারেন।

সবকিছুই ভাল লাগতে হবে এমনতো না। তাই মিশ্র অনুভূতি হলেও বলব প্লানেটেরিয়ামটা দেখতে যাওয়া উচিৎ। আপনার সন্তান যারা স্কুলে পড়ছে তাদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। তারা অনেক কিছুই শিখতে পারবে। দুই বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের নিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়।

যেভাবে যাবেন: ঢাকার যেকোন স্থান থেকে বিজয় সরনীগামী বাসে উঠবেন।

টিকেট মূল্য: প্রতিটি প্রদর্শনীর জন্য আলাদা আলাদা টিকেট ক্রয় করতে হয়। এজন্য আগেই সিদ্ধান্ত নিবেন কোন কোন প্রদর্শনীতে প্রবেশ করবেন। প্রবেশ পথেই টিকেট পাবেন।

  • প্লানেটেরিয়ামের জন্য ১০০ টাকা, আর বাকিগুলোর জন্য ৫০ টাকা দরে টিকেট ক্রয় করতে হবে। অর্থাৎ সবগুলো দেখতে চাইলে সর্বমোট ২৫০ টাকা লাগবে।

সময়সূচী: প্লানেটেরিয়াম ছাড়া বাকিগুলো কিছুক্ষণ পরপরই দেখাবে। তাই প্লানেটেরিয়ামের সময়সূচীটাই জানা জরুরী।

  • শনি, রবি, সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার: সকাল সাড়ে ১০টা, দুপুর ১২টা, বেলা ২টা, বিকাল সাড়ে ৩টা এবং সাড়ে ৫টায় দেখা যাবে।
  • শুক্রবার: সকাল ১০টা, সাড়ে ১১টা, বেলা আড়াইটা, বিকাল ৪টা ও সাড়ে ৫টা।
  • প্রতিটি সময়ের ৩০ মিনিট পূর্বেই টিকেট সংগ্রহ করতে হবে।
  • বুধবার সাপ্তাহিক ছুটি।

সূচীটি শীতকালীন অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য।

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: http://www.novotheatre.gov.bd/   


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।