সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

জেনে রাখুন চটজলদি শেষ করে ফেলুন রান্নাঘর গোছানোর কাজটি

আপনার পরিবারের সকল সদস্যের মাঝে খাবার পর নিজের থালা নিজে ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তলুন। এটাকে সাধারন কাজের অন্তর্ভুক্ত করুন।

রাঁধুনির সাথে রান্নাঘরের সম্পর্ক সবসময়ের। রান্না করতেই যতই ভালোবাসেন, রান্নাঘর পরিষ্কারের কথা চিন্তা করলেই হাঁসফাঁস শুরু হয়ে যায় সবার। আর বাড়িতে যদি অতিথি আসে তবে তো কথাই নেই। কিন্তু জানেন কি রান্নাঘর পরিষ্কারের কাজটি আপনি মাত্র পনের মিনিটেই শেষ করে ফেলতে পারেন। তার জন্য প্রয়োজন কেবল কিছু ধাপ অনুসরণ করা। আসুন জেনে নেওয়া যাক ধাপগুলোঃ

ধাপ ১- ময়লা আবর্জনা যুক্ত থালা বাসন পরিষ্কারঃ

রান্নাঘর পরিষ্কার করতে প্রথমে আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তা হল ময়লা আবর্জনা যুক্ত থালা বাসন গুলো পরিষ্কার করা। এই কাজটি করার জন্যও যদি আপনি একটি গোছানো নিয়ম মেনে চলেন তবে কম সময়ে বেশি কাজ করতে পারবেন।

ধোয়ার কাজে দরকারী জিনিসপত্র এই যেমন  স্পঞ্জ, ক্লিনার্স, ভিমবার বা অন্য কোন ডিশ ওয়াসের সাবান বা জেল ইত্যাদিকে সবসময় হাতের নাগালে নির্দিষ্ট স্থানে রাখবেন। যেন প্রয়োজনে খুব তাড়িতাড়ি এগুলোকে পাওয়া যায়।

কাজ ১- সিঙ্কের মুখ আটকে হালকা গরম পানির সাথে ডিশ ওয়াশের জেল বা সাবান মিশিয়ে রাখুন। যদি আপনার দুই সিঙ্ক হয় তবে বেশ ভালো হয়, নতুবা এক সিঙ্কেই কাজ করুন।

কাজ ২- প্লেট, বাটি, থালা ইত্যাদি থেকে উচ্ছিষ্টগুলোকে আলাদা করে ময়লা ফেলার স্থানে রাখুন। বাড়তি খাবার, কাটা, মাংসের হাড় ইত্যাদি পরিষ্কার করুন

কাজ ৩- এবার এক এক করে থালা বাসন গুলোকে সিঙ্কের জমানো পানিতে চুবিয়ে ঘষে নিন এবং ঘষা হলে সিঙ্কের পাশের জায়গায় রাখুন।

কাজ ৪- এবার জমানো পানি ছেড়ে দিয়ে এক এক করে সব থালা বাসন বা ডিশগুলোকে ট্যাপের পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

কাজ ৫- ধোয়া শেষে থালা বাসন থেকে পানি ঝরার জন্য সেগুলো উপুড় বা কাত করে রাখুন।

প্রথম ধাপের কাজ এখানেই মোটামোটি শেষ। থালা বাসনগুলো শুকাতে যে সময় লাগবে সে সময় আপনি দ্বিতীয় ধাপের কাজ করুন।

ধাপ ২- সকল জিনিসকে সঠিক স্থানে স্থানীকরনঃ

রান্নার সময় বিভিন্ন জিনিস আপনার প্রয়োজনে কাজে লেগেছিলো। এবার সেই জিনিসগুলোকে সঠিক স্থানে রাখুন।

কাজ ১- বাড়তি সবজি থাকলে সেগুলো ফ্রিজে রেখে দিন। আলু, পেয়াজ, রসুন ইত্যদিকে নির্দিষ্ট ঝুড়িতে রাখুন।

কাজ ২- হলুদ, মরিচের গুড়ো, বিভিন্ন মসলা ইত্যাদি সে সেলফ বা কেবিনেটে থাকে সেখানে রাখুন।

কাজ ৩- শাক সবজি বা মাছ মাংস কাটার পর যে উচ্ছিষ্ট থাকে সেগুলোকে ময়লা ফেলার স্থানে রাখুন।

কাজ ৪- আপনার র‍্যাক, ক্যাবিনেট, চুলার আশপাশ ভালো করে মুছে ফেলুন।

এই ধাপের কাজ এখানেই শেষ। এবার আপনি পরের ধাপে চলে যান।

ধাপ ৩- প্রয়োজনীয় পরিস্কারের কাপড় ধৌতকরনঃ

কাজ ১- রান্নাঘরে কাপড় ব্যবহার করেন না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। বিভিন্ন জিনিস মুছতে, ধুলা ঝড়তে বা অন্য কোন কারনে আমাদের ছোট নরম গামছা বা সুতি কাপড় লাগে। কাজ শেষে যেগুলো প্রচুর অপরিষ্কার হয়ে যায়। এই ধাপে আপনি সেই প্রয়োজনীয় কাপড়গুলোকে পরিষ্কার করবেন। অর্থাৎ সেগুলোকে ধুয়ে ফেলুন।

কাজ ২- অপরিষ্কার পানি নির্গমনের পথটি সচল আছে কিনা দেখে নিন। না থাকলে সেটিকে পরিষ্কার করে দিন।

কাজ ৩- ব্যবহার করা স্পঞ্জ, সিঙ্ক এগুলো পরিষ্কার করে ফেলুন।

ধাপ ৪- থালা বাসন সঠিক স্থানে রাখাঃ

এতক্ষনে আপনার হাড়ি পাতিল, থালা বাসন নিশ্চয়ই শুকিয়ে গেছে। সেগুলোকে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিন।

জেনে রাখা ভালো কিছু জরুরী টিপসঃ

  • পরিবারের সদস্য বেশি মানে কাজ বেশি একথা যেমন সত্য তেমনি কাজ করার মানুষ ও বেশি এ কথা ও সত্য। তাই রান্নাঘর পরিষ্কার করার ধাপগুলো দুই/তিনজন ভাগ করে নিতে পারেন। তাতে আরো দ্রুত কাজ শেষ হবে
  • আপনার পরিবারের সকল সদস্যের মাঝে খাবার পর নিজের থালা নিজে ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তলুন। এটাকে সাধারন কাজের অন্তর্ভুক্ত করুন। 
  • রান্নার ফাঁকেই ছুরি, কাঁচি, বোর্ড ইত্যাদি ধুয়ে ফেলুন। সময় বাচবে।

১৫ মিনিটে পরিষ্কার করার এই কাজগুলো প্রতিদিনের রুটিন হিসেবে ফলো করতে পারেন। কিংবা কোন জরুরী প্রয়োজনে কম সময়ে এই ধাপগুলো কাজে লাগিয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করতে পারেন। তবে মাঝে মাঝে একটু বেশি সময় নিয়ে রান্নাঘর পরিষ্কার করা অবশ্যই উচিৎ। 


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।