সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

ব্যক্তিত্ব বাড়াতে চাইলে যে অভ্যাসগুলো পরিহার করতেই হবে

আমরা অনেক সময় মনের অজান্তে কিংবা জেনেশুনে এমন কাজ করে থাকি যা আমাদের ব্যক্তিত্বের জন্য ‍মারাত্মক হুমকীস্বরূপ। এই সকল কাজের তালিকা করতে গেলে তা অনেক বড় হয়ে যাবে। তবে তাদের মধ্যে মাত্র কয়েকটি কাজ যা আমরা হরহামেশাই করে থাকি সেগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছি:

অপরের দুঃখ উপভোগ করা: একের দুঃখ অন্যের কাছে বলে তা উপভোগ্য করার চিন্তা-ভাবনা পরিহার করতে হবে। কারণ যদি আপনি খুব আগ্রহের সাথেও অন্যের কথা বলতে থাকেন তথাপিও কেউ কেউ তা অপছন্দ করতে পারে। ফলে বার বার এমন করলে এক সময় তারা আপনাকে এড়িয়ে চলতে পারে। আবার যার দুঃখকে উপভোগ করছেন তার কাছে আপনার ব্যক্তিত্ব কোথায় যেতে পারে ভাবুনতো?

আপনার অভ্যন্তরীণ বিষয় অন্যের সাথে তুলনা করা: এটি অনেক বড় দুঃখের কারণ হতে পারে। সতর্কতার সাথে চলুন। দেখুন আপনার দুঃখ বা ব্যর্থতা অন্যের খুশিরও কারণ হতে পারে। যদি আপনি বড় হতে চান তবে মনে রাখবেন কিছু লোক সর্বদাই আপনাকে পিছু টেনে ধরবে। তারা আপনার সামনে উপর উপর খুশি দেখালেও মনের অভ্যন্তরে আসল রূপ চেপে যাবে! আপনি শুধুমাত্র আপনার নিজস্ব সাফল্য-ব্যর্থতার তুলনা নিজের মাঝেই করে যান।

যেকোন কাজেই অন্যের উপর নির্ভর করা: এমন অনেক আছেন যারা যেকোন কাজেই অন্যের উপর নির্ভর করে থাকেন। আপনার উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট সময়ের মাঝেই সমাপ্ত করতে চাইলে এই অভ্যাস পরিত্যাগ করবেন।

যারা ছোট ছোট কাজ নিজের মত করে করতে পারে তারা এক সময় আত্মবিশ্বাসী হয়ে বড় বড় কাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার সাহস অর্জন করে থাকে।

যা চলে গেছে তা নিয়ে বার বার আফসোস করা: যদি আপনার সাথে এমন কিছু অতীতে ঘটে থাকে তবে একবার আফসোস করুন, দু’বার দুঃখ করুন সমস্যা নেই। কিন্তু তৃতীয়বার করবেন না। ঐ ঘটনা থেকে যা শিখলেন তা নিয়ে সামনের দিকে আগান। অনেকে আপনার দুঃখের সময় সহানুভূতি দেখাবে। পরে কেটে পড়তে পারে। ‍তাই আপনার দুঃখ আরো বাড়তে পারে। অতীতের ঘটনা নিয়ে বিদেশী সিরিয়াল তৈরির দরকার নেই। এমন করলে না বর্তমান, না ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবেন।

যা চান তার উপর দৃষ্টি রাখুন: সম্পূর্ণ ব্রমাণ্ডে আমরা যা চাই তাকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নিলে তা আশ্চর্যজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে। তাই যা চান তাই নিয়ে ভাবুন। যা চান না তা নিয়ে কথা বলে সময় নষ্ট করার দরকার কী? উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি উপার্জন বাড়াতে চান তবে কিভাবে উপার্জন বাড়ানো যায় তাই নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে থাকুন। দেখবেন উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে।

এই কথাগুলো মনে রাখলে দেখবেন আপনার ব্যক্তিত্ব বৃদ্ধি ও উন্নতি ত্বরাণ্বিত হয়েছে এবং জীবনে সুখের নাগাল পেয়ে গেছেন। সবার সাফল্য ও সুখ কামনায় আজ এ পর্যন্তই।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।