সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

hair.jpg

জেনে রাখুন খুশকিমুক্ত ঝলমলে চুল

এক কাপ কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল-চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন শ্যাম্পুর বদলে এই মিশ্রণ ব্যবহার করে চুল পরিষ্কার করতে হবে।

একরাশ ঘন কালো চুলে সাদা সাদা খুশকি দেখা গেলে চুলের সোন্দর্য পুরোটাই মলিন হয়ে যায়। আবার আপনার সুন্দর চুলগুলো নষ্টও হয়ে যাবে। আর শীত মৌসুমে প্রায় সবার মাথায় খুশকির পরিমাণ বেড়ে যায়। কারণ শীতের এই শুষ্ক আবহাওয়ায় পুরো শরীরের মতো মাথার ত্বকও আর্দ্রতা হারায়। আর শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ায় ধুলোবালি একটু বেশি ওড়ে আর এজন্য মাথার চুলও বেশি অপরিষ্কার হয়ে থাকে। তাই এসময় মাথার ত্বকেরও প্রয়োজন আলাদা যত্নের।

খুশকি থেকে রেহাই পেতে বাজারে নানান ধরনের শ্যাম্পু ও লোশন পাওয়া যায়। তবে মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে ঘরোয়া কিছু উপাদান সহজেই কাজে লাগানো যায়। ঘরোয়া উপায়ে খুশকি দূর করার কিছু উপায় নিয়ে আজকের আয়োজন।

লেবু
খুশকি দূর করতে প্রথমেই যে জিনিসটির কথা আপনার মনে হবে সেটি হলো লেবু। দুই টেবিল-চামচ লেবুর রস মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করতে হবে। মিনিট খানেক অপেক্ষার পর অল্প পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে। খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত এইভাবে চুলে লেবু ব্যবহার করা যাবে।

তেল
মাথার ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে চুলের গোড়ায় খুব ভালোভাবে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করতে হবে। এতে চুলের গোড়ায় জমে থাকা খুশকি আলগা হয়ে আসবে। অন্যদিকে চুলে নিয়মিত নারিকেল তেল ব্যবহার করলে ফাঙ্গাসের কারণে খুশকির প্রকোপ কমাতে সাহায্য করবে। 

তাছাড়া চুলের গোড়ায় ময়েশ্চারাইজ করে খুশকি এবং চুলকানি থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করবে নারিকেল তেল। তবে মাথার ত্বকে তেল ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট পরে ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। অনেকে তেল দিয়ে বাইরে বের হন। এতে আপনার চুলে ময়লার পরিমান বেড়ে যাবে এবং চুল দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে যাবে। ২০ মিনিটেই চুল তেল থেকে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে নেয়।

রিঠা
চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে রিঠার জুড়ি নেই। রিঠা চুল সিল্কি করে। তেমনি খুশকি দূর করতেও এটি বেশ কার্যকর। রিঠা পাউডার বা রিঠা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে বেটে মাথার ত্বকে লাগিয়ে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এরপর ভালোমতো ধুয়ে ফেলুন। চুলে শ্যাম্পু করা লাগবে না। দেখবেন আপনার চুল ঝলমলে ও খুশকি মুক্ত হয়ে যাবে। তবে এটা নিয়মিত করতে হবে।

বেকিং সোডা
এক কাপ কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল-চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন শ্যাম্পুর বদলে এই মিশ্রণ ব্যবহার করে চুল পরিষ্কার করতে হবে। চাইলে প্রতিদিনই ব্যবহার করা যেতে পারে। আর যদি শ্যাম্পুই ব্যবহার করতে হয় তাহলে শ্যাম্পুর সঙ্গে খানিকটা বেকিং সোডা মিশিয়ে চুল পরিষ্কার করা যেতে পারে। বেকিং সোডা খুশকি প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।

তুলসী ও আমলকির পেস্ট
কয়েকটি তুলসী পাতা নিয়ে আমলকী পাউডারের সঙ্গে মিশিয়ে ভালো করে পেস্ট করে নিন। তিন মিনিট এই পেস্ট মাথার ত্বকে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণ চুলের ত্বকে পুষ্টি জোগায় এবং খুশকি কমাতে সাহায্য করে।


উপরের ঘরোয়া পদ্ধতিতে মাথার ত্বক খুশকি মুক্ত রাখা সম্ভব। তবে খুশকির মাত্রা বেশি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ দীর্ঘমেয়াদী খুশকি আপনার চুলের ক্ষতি করবে।



এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।