সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

আচারের জন্য বিথ্যাত চালতা

চালতা দিয়ে প্রধানত মজার সব আচার করা হয়। চালতা পুষ্টিগুণেও সেরা এবং রূপচর্চার উপাদান হিসেবেও রয়েছে এর ব্যবহার। দেখতে সুন্দর বলে শোভাবর্ধক তরু হিসেবে চালতা গাছ পার্ক, উদ্যান, বাগানেও লাগানো হয়।

আচারের জন্য বিথ্যাত চালতা
মহসিন মানসুর

চালতা সবার কাছেই বেশ পরিচিত। যদিও কেউ কেউ অবহেলার চোখে দেখে থাকেন এই ফলটি। তবে গুণের দিক থেকে চালতা মোটেই হেলা করার মতো নয়। চালতা দিয়ে প্রধানত মজার সব আচার করা হয়। চালতা পুষ্টিগুণেও সেরা এবং রূপচর্চার উপাদান হিসেবেও রয়েছে এর ব্যবহার।

চালতা গাছঃ
চালতা গাছ দেখতে বেশ সুন্দর। এর দীর্ঘাকৃতির গাঢ় সবুজ পাতার কিনার থাকে খাঁজকাটা। ফলে তা দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় মনে হয়। দেখতে সুন্দর বলে শোভাবর্ধক তরু হিসেবে চালতা গাছ পার্ক, উদ্যান, বাগানেও লাগানো হয়। চালতার বৈজ্ঞানিক নাম Dillenia indica। এটি উচ্চতায় ১৫ থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। একটি গাছে বছরে ৬০-১০০ কেজি চালতার ফলন হয়। চালতাগাছ সাধারণত ৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। 

চালতার ফুল ও ফলঃ
চালতা গাছের মূল আকর্ষণ হলো এর ফুল। এর সাদা রঙের ফুল খুবই মনোলোভা। ফুল বেশ বড় হয়, প্রায় পাঁচ ইঞ্চির ব্যাসের। সুগন্ধীযুক্ত এই ফুলে মোট পাঁচটি পাপড়ি থাকে। এই পাপড়িগুলোকে আঁকড়ে ধরে রাখে ফুলের বৃতি এবং এই বৃতিই মূলত ফলে রূপান্তরিত হয়। চালতা ফলের আকৃতি প্রায় গোলাকার, রঙ সবুজ এবং স্বাদ টকমিষ্টি। ফলের ব্যাস ১০-১২ সেন্টিমিটার হয়। সাধারণত বর্ষার প্রথম ভাগে ফুল ফোটে ও শরৎ-হেমন্তে ফল পাকে।

চালতার গুণাগুণঃ
  • খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম চালতায় আছে আমিষ ০.৮ গ্রাম, শ্বেতসার ১৩.৪ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৬ মিলিগ্রাম ও খাদ্যশক্তি ৫৯ কিলো ক্যালরি।
  • কচি চালতার রস চিনি ও পানিসহ শরবত করে খেলে জ্বরের প্রকোপ কমে এবং কাশির উপশম হয়।চালতার শরবত সুস্বাদু।
  • চালতার আচার, চাটনি, জেলি খুবই মুখরোচক। বিভিন্ন প্রকার ব্যঞ্জনে বিশেষত চিংড়ি সহযোগে টক রন্ধনের জন্য চালতা বেশ উপযোগী।
  • এ ছাড়া ফল শুষ্ক ও গুঁড়ো করে অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যে মসলা হিসেবে ও স্বাদবর্ধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • চালতা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ভিটামিন 'এ', 'বি' ও 'সি'-এর ভালো উত্‍স। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি' থাকায় এই ফল স্কার্ভি ও লিভারের রোগ প্রতিরোধ করে।
  • চালতায় রয়েছে বিশেষ ধরনের কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা জরায়ু ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
  • চালতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ যা বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। চালতা পেটের নানা অসুখ প্রতিরোধে সহায়তা করে। ডায়রিয়া সারাতে কাঁচা চালতার রসের তুলনা নেই।
  • চালতায় উপস্থিত আয়রন রক্তের লোহিতকণিকার কার্যক্রমে সহায়তা করে। রক্তের সংবহন ঠিক রাখে। 
  • রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে চালতা। 
  • কিডনীর নানা রোগ প্রতিরোধেও সহায়তা করে চালতা। চালতার বিভিন্ন উপাদান হার্টের নানা রোগ প্রতিরোধেও সহায়তা করে।
  • অন্ত্রে বাসা বাঁধা কৃমির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চালতা অসাধারণ ক্ষমতা রাখে।
  • পাকস্থলীতে যাদের আলসার আছে, তাদের জন্য উপযুক্ত ওষুধ হতে পারে চালতা।
  • কুসুম গরম পানিতে চালতার রস আর সামান্য চিনি মিশিয়ে খেয়ে খেলে রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করবে।
  • শুধু ফল নয়, চালতার মূল ও পাতারও রয়েছে ঔষধীগুণ। মচকে গিয়ে ব্যথা পেলে সেখানে চালতা গাছের মূল ও পাতা পিষে প্রলেপ দিলে ব্যথা কমে যায়। 
রূপচর্চায় চালতাঃ
  • কাঁচা চালতার পানিতে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় নিয়মিত লাগালে চুল পড়া কমে যায়।
  • কাঁচা চালতার রসের সাথে পেঁয়াজের রস মিশিয়ে সপ্তাহে দুবার চুলের গোড়ায় লাগালে খুশকি দূর হয়ে যাবে।
  • চালতার রসের সাথে চালের গুঁড়া মিশিয়ে স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করলে মরা কোষ পরিষ্কারের পাশাপাশি ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ও কোমল।
  • চালতার রস টোনার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। চালতার রসের সাথে মধু মিশিয়ে তাতে তুলো ভিজিয়ে ত্বকে লাগান। দশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে বলিরেখা পড়া বিলম্বিত করে এই টোনার।
  • চালতার রসের সাথে চিনির গুঁড়া মিশিয়ে ত্বকের কালো অংশগুলোতে লাগান। আঙুল দিয়ে হালকা মাসাজ করুন দশ-পনেরো মিনিট। এরপর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের কালচে ভাব দূর হয়ে যাবে।

এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।