সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Primary-Treatment-form-Burn.jpg

জেনে রাখুন পুড়ে গেলে প্রাথমিকভাবে যা করণীয়

পুড়ে যাওয়া বিপদ যেকোন সময়েই ঘটতে পারে। পোড়া সম্পর্কিত প্রাথমিক চিকিৎসা জ্ঞান থাকলে বিপদ অনেকটাই কমে যায়। তাই আমাদের এ বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান রাখা জরুরী।

শুষ্ক গরম বা আর্দ্র গরমের কারণে আমাদের পুড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ আগুন, গরম তরল পদার্থ, বিকিরণ, ঘর্ষণ, গরম বস্তু, সূর্যের তাপ, বজ্রপাত, রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি কারণে পুড়ে যেতে পারে। ক্ষতের ধরন অনুযায়ী পোড়াকে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় ডিগ্রী পোড়ায় ভাগ করা হয়।

পুড়ে যাওয়া ত্বক লাল হয়, ফুলে যায়, ফোসকা পড়ে ও ব্যথা হয়। তৃতীয় ডিগ্রী পোড়ায় অভ্যন্তরীণ মাংসপেশী ও স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যদি ক্ষতের ব্যাস ৩ ইঞ্চি এর অধিক হয় তবে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। অল্প পুড়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা করা যায়।

পোড়া গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা:
প্রথম এবং দ্বিতীয় ডিগ্রী পোড়া বা অল্প পুড়ে গেলে অর্থাৎ যদি ক্ষতের ব্যাস ৩ ইঞ্চি থেকে কম হয় তবে তার চিকিৎসা ঘরেই করা যেতে পারে। চলুন জানা যাক, ছোটখাট পোড়ার প্রাথমিক চিকিৎসা:

  • পোড়াকে ঠাণ্ডা করা: পুড়ে গেলে ১০-১৫ মিনিট পর্যন্ত বা ব্যথা কম না হওয়া পর্যন্ত ট্যাপের পানিতে ভেজাতে হবে। যদি ট্যাপ না থাকে তবে ঠাণ্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখা বা ঠাণ্ডা পট্টি বেঁধে দিতে হবে। বরফ লাগানো যাবে না।
  • পট্টি বা ব্যান্ডেজ লাগানো: পোড়া স্থানে জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ দিয়ে সুরক্ষিত করতে হবে। পোড়া ঢাকতে তুলা ব্যবহার করা যাবে না। এতে জ্বালা হতে পারে। ব্যান্ডেজ হালকাভাবে লাগাতে হবে যাতে পোড়া ত্বকে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। ব্যান্ডেজ ব্যবহার করলে ব্যথা কমে এবং ফোসকা পড়া ত্বক সুরক্ষিত থাকে।
  • বেদনানাশক ঔষধ ব্যবহার: এ্যাসিটামিনোফেন, ব্রুফেন বা মেফেনেমিক এসিড যুক্ত সরল ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। বাচ্চা বা কিশোর-কিশোরীদের এসপিরিন বা এ জাতীয় ঔষধ দিবেন না।

অধিকতর ছোটখাট পোড়া কোন প্রকার চিকিৎসা ছাড়াই আরোগ্য হয়। সংক্রমণের লক্ষণ, ব্যথা বৃদ্ধি, লালচে হওয়া, জ্বর, ফোসকা বা ক্ষত থেকে কিছু প্রবাহিত হলে সতর্ক হতে হবে।

যা করবেন না:

  • পোড়া স্থানে বরফ লাগাবেন না।
  • মাখন, মলম, ডিম, টুথপেস্ট, গোবর ( বিশেষতঃ প্রাণির শরীর পোড়া গেলে গোবর লাগাতে দেখা যায় ) লাগাবেন না।
  • ফোসকা ছিদ্র করে দিবেন না। এতে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।
  • অধিকতর পোড়া বা তৃতীয় ডিগ্রী পোড়ায় ঘরে চিকিৎসা করবেন না।

কিছু প্রকার পোড়ায় আপনার বাচ্চাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। তখন যা লক্ষ্য রাখবেন:
  • পোড়া স্থানে আঠালো কোন কাপড় ব্যবহার করবেন না। জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে দিবেন।
  • শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিবিধি লক্ষ্য রাখবেন। যদি বাচ্চা শ্বাস না নেয় এবং রক্তসঞ্চালনের অন্যান্য লক্ষণ অনুপস্থিত হয় তবে কার্ডিয়োপালমোনারী রেসুসিটেশন (সিপিআর) শুরু করবেন।
  • সম্ভব হলে পোড়া স্থান হৃদপিন্ড থেকে উপরে রাখবেন।

পুড়ে যাওয়া বিপদ বছরের যেকোন সময়েই ঘটতে পারে। শীতকালে আগুনের পাশে বসে শীত নিবারণকালে অনেক পোড়ার ঘটনা ঘটে। পোড়া সম্পর্কিত প্রাথমিক চিকিৎসা জ্ঞান থাকলে বিপদ অনেকটাই কমে যায়। তাই আমাদের এ বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান রাখা জরুরী। 


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।