সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

5_298124.jpg

চলো স্কুলে যায়

জানুয়ারি মাস মানেই নতুন স্কুলে ভর্তি। এই ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয় ডিসেম্বর থেকেই। ক্লাস শুরু হয় জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে। এখন স্কুলে ভর্তি হওয়ার বয়স শুরু হয় সাড়ে তিন থেকে চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেই। কিন্ডারগার্টেনগুলোয় একেবারে ছোট বয়স থেকেই ভর্তি নেয়া শুরু করে। সেখানে প্লে, নার্সারি, কেজি—এই তিন বছর ক্লাস শেষে ভর্তি হয় প্রথম শ্রেণীতে। তাই এখানে সরকারি স্কুল থেকে একটু কম বয়সী শিশুদের ভর্তি করা হয়। স্কুলে একবার যাওয়া-আসা শিখে গেলেই স্কুলের প্রতি, বন্ধু-বান্ধবীদের প্রতি, শিক্ষকদের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। তখন আর বাসায় থাকতে মন চায় না। স্কুলই বেশি প্রিয় হয়ে উঠে। কিন্তু প্রথম স্কুলে পাঠাতে কিন্তু বাচ্চার ক্ষেত্রে বেশ বেগ পেতে হয়।
আয়াত ও আয়ান যমজ দুই ভাই। এ বছর ওরা একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি হয়েছে। স্কুলে যাওয়ার প্রতি বেশ আগ্রহ ছিল তাদের। কিন্তু স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর সে আগ্রহ কিছুটা কমতে থাকে। তাই প্রতিদিনই তাদের সঙ্গে মা’কে যেতে হয়। শুধু তাই নয়, রীতিমত পাশে বসে ক্লাসও করতে হয়। যদিও আয়াত তার মা’কে বসিয়ে রাখতে চায় না, তার ভাইয়া মানে আয়ান নাকি তার মা’কে খামচি দিয়ে ধরে বসে থাকে। এদিকে মেধাও এ বছর স্কুলে ভর্তি হয়েছে। এদিক থেকে মেধা বেশ লক্ষ্মী মেয়ে। সে স্কুলে যেতে বেশ আগ্রহী। স্কুলে যেতে তার খুব ভালো লাগে। এমনকি বাড়ির কাজও সে তার মা’কে তাগাদা দিয়ে করিয়ে নেয়।
অনন্যা ও অনিমা দুই বোন। অনিমা এ বছর স্কুলে ভর্তি হয়েছে। তার বেশ স্কুলপ্রীতি। কিন্তু বড় বোন অনন্যা তাকে বলে স্কুলে গেলে স্যার মারে। এ থেকে সে স্কুলের নাম শুনলেই ভয় পায়।
একদিন চাচাতো বোন লালিত্যের সঙ্গে স্কুলে বেড়াতে গেলে তার স্কুল দেখে বেশ ভালো লাগে। শিক্ষকরাও ওকে খুব আদর করে। এভাবে ওর স্কুলের ভয় কেটে যায়। এখন সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
এই যে বাচ্চাদের স্কুলভীতি। এই ভীতি দূর করতে স্কুল সম্পর্কে বিভিন্ন গল্প বলতে হবে। স্কুলকে ভালো লাগা শেখাতে হবে। স্কুলে গেলে শিক্ষক মারবেন, একথা তার মাথায় ঢোকাবেন না। আবার অনেক বাবা-মা বলেন, বাড়ির কাজ করে নাও, না হলে শিক্ষক মারবে। এতে ওদের কচি ব্রেনে প্রেসার পড়ে। এমনি বুঝিয়ে বাড়ির কাজ করিয়ে নিন। পজিটিভ কথা বলুন। বাড়ির কাজ করে নিয়ে গেলে শিক্ষক তোমাকে ভালো বলবে, তুমি গুড বয়/গার্ল হয়ে থাকলে তারা তোমাকে আদর করবে। এমনভাবে নানা রকম ভালো ভালো কথা বলুন। এতে বাচ্চারা লেখাপড়ায় আগ্রহী হয়ে উঠবে।
ওদের ভালো লাগাকে গুরুত্ব দিন। ওদের পছন্দের টিফিন বানিয়ে দিন। প্রিয় কোনো বন্ধু থাকলে তার জন্যও কিছু দিয়ে দিন। ছোটবেলা থেকে শেয়ারিংয়ের বিষয়টা মাথায় দিয়ে দিন। স্কুলব্যাগ, পানির পট, টিফিন বক্স ওদের পছন্দের মতো কিনে দিন। কেননা এগুলো ওরা ব্যবহার করবে। তাই ওদের পছন্দের মূল্যায়ন করুন।
স্কুলের শিক্ষকদেরও বাচ্চাদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। যেসব বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না তাদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। স্কুলটাকে প্রথমে ভালো লাগাতে হবে। মনে রাখবেন—‘জোর করলে মেনে নেয়, কিন্তু মনে নেয় না’। তাই মেনে নেয়া নয়, মনে নিতে হবে। যে বাচ্চাটা স্কুল পছন্দ করছে না, তার এই স্কুল অপছন্দের কারণ খুঁজে বের করুন। হয়তো তার পড়ালেখা করতে ভালো লাগছে না। তার ভেতরে বিশেষ কোনো প্রতিভা—নাচ, গান, ছবি আঁকা ইত্যাদি লুকিয়ে আছে, সেটা আপনি খুঁজে বের করুন। তার সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশুন। স্কুলে নাচ, গান, ছবি আঁকার ব্যবস্থা করুন। দেখবেন সে আস্তে আস্তে স্কুলের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। আর ভুলেও বন্ধু-বান্ধবীর সামনে তার ভুল নিয়ে সমালোচনা করবেন না। এতে সে মর্মাহত হবে এবং স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তাকে সব কাজে উত্সাহ দিন।
স্কুল একবার ভালো লেগে গেলে দেখবেন ও আর বাড়িতেই থাকতে চাইবে না। তাই প্রথমে স্কুলের প্রতি আগ্রহী করে তুলুন। বাড়িতে স্কুল সম্পর্কে ইতিবাচক গল্প বলুন। আপনার ছোটবেলার মজার মজার গল্প বাচ্চাদের সঙ্গে শেয়ার করুন। আপনার প্রিয় শিক্ষকের গল্প বলুন। দেখবেন ও তখন স্কুলের প্রতি ভালো লাগাবোধ করবে।



এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।