সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

1427356755.jpg

বিকাল ৪টা থেকে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন মিসেস নয়ন, অথচ নয়ন সাহেবের দেখা নেই। এখন সন্ধ্যা ৭টা। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ হয়নি এই সময়টাতে। মিসেস নয়ন দুশ্চিন্তা ও রাগে ফুঁসছেন। হাসি মুখে বলি কথা

সেই ৩টার সময় আসবে বলেছে, এখনও সাহেবের দেখা নেই। কী আর করা, বাধ্য হয়ে ফোন করলেন নয়ন সাহেবের অফিস কলিগের মোবাইলে। তার সঙ্গে কথা বলে মেজাজের মাত্রা বেড়ে গেল হু হু করে। তিনি নাকি এখনও অফিসেই অবস্থান করছেন, মোবাইল সাইলেন্ট করা। মিসেস নয়ন কলিগের সঙ্গে কথা বলেই মোবাইল ফোনটা সুইচ অফ করে রাখলেন।

রাত ৯টায় বাড়ি ফিরলেন নয়ন সাহেব। রাগে গরগর করতে করতে গিয়ে দরজা খুললেন মিসেস নয়ন। আর তখন মুখে একটা স্নিগ্ধ হাসির আভা ছড়িয়ে ঘরে ঢুকলেন নয়ন সাহেব। এই একগাল হাসি দেখে মুহূর্তেই রাগ পানি হয়ে গেল মিসেস নয়নের। ...গল্পটা কাল্পনিক হলেও, হাসি সত্যি মানুষের মনকে ভালো করে দেয়, রাগকে দমন করে। অনেক খারাপ কথা হাসিমুখে বললে, তা আর খারাপ শোনায় না, যাকে বলা হয় সেও কষ্ট পায় না। তাই একটু হাসিমুখে কথা বললে মনকষাকষি হয় না। আবার সম্পর্কটাও ভালো থাকে। আর বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাসলে মানুষের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে, ভালো থাকে মনও। প্রাণখোলা হাসি শরীরের ব্যথা বেদনাও দূর করে। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রাণখোলা হাসিতে শরীরের অভ্যন্তরে এক প্রকার রাসায়নিক ক্রিয়া করে, যা ব্যথা বেদনা দূরে সাহায্য করে।
উন্নত দেশগুলোতে লাফিং ক্লাব গড়ে উঠেছে, বাংলাদেশেও তার চেষ্টা চলছে। মর্নিং ওয়াকের সময় একসঙ্গে সবাই মিলে প্রাণখুলে হাসেন, তাতে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে, মুখের পেশির ব্যায়াম হয়। তাই হাসি কে মহৌষধ বললেও ভুল হবে না। আর হাসিমুখের জয় সর্বত্র। বিশেষ করে মেয়েদের বেলায় বিয়ের জন্য মুখ দেখতে গেলে পাত্রপক্ষ বলে থাকেন, মেয়েটা বেশ হাসিখুশি, হাসিমুখে কথা বলে। আর যদি উল্টোটা হয়, তাহলে তো ‘গোমড়ামুখো’ উপাধি পেতে হয়। তাই হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করা উচিত।
হাসি দিয়ে বিশ্ব জয় করা যায়। একগাল হাসি মানুষের মনকে মুহূর্তে ভালো করে দেয়। আবালবৃদ্ধবনিতা সবার জন্যই হাসি জরুরি। শিশুর মুখের হাসি যেমন সবার মন কাড়ে, তেমনি বৃদ্ধ মানুষের ফোকলা দাঁতের হাসিও মানুষের মনকে ভালো করে দেয়। হাসিমুখে যে কোনো কথায় সহজভাবে বলা যায়। হাজার অন্যায় করার পরও যদি হাসিমুখে স্বীকার করা যায়, তাহলে ক্ষমা পাওয়া যায়। তাই গোমড়া মুখে না থেকে সবার উচিত্ হাসিমুখে কথা বলা।
শিশুরা প্রাণখুলে হাসে, কিন্তু বড়রা তা পারে না, তাই অনেক সময় শিশুদের হাসাহাসি দেখলে বড়রা রেগে যায়। তাই শিশুদের হাসিতে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও তাদের হাসতে বাধা দেবেন না। হাসিখুশি বাচ্চা বেশি মেধাবী হয়। আর যেসব বাচ্চা ভাবুক টাইপের ও গোমড়ামুখো হয়, তারা স্বাভাবিকভাবে বড় হতে পারে না। তাই সবার উচিত হাসিকে প্রাধান্য দেয়া। তবে অকারণে হাসলে আবার পাগল উপাধিও পেতে পারেন। অবস্থা ও পরিস্থিতি বুঝে হাসি আপনার ব্যক্তিত্বকে বাড়িয়ে তুলবে।
হাসিখুশি মানুষের মন পরিষ্কার হয়। তারা কখনও কারও খারাপ চায় না, সব সময় আনন্দে থাকতে ও অন্যকে আনন্দ দিতে পছন্দ করে। যে নিজে হাসতে পারে, সে অন্যকেও হাসাতে পারে। তাই সবাইকে হাসি, খুশি ও আনন্দে থাকতে হবে। আর সেজন্য জানা দরকার হাসি মূলত কী? হাসি হলো এক ধরনের মুখমণ্ডলীয় বহিঃপ্রকাশ, যা সচরাচরভাবে মুখের নমনীয় পেশিকে দু’পাশে প্রসারিত করার মাধ্যমে অর্জিত হয়। মুখমণ্ডল ছাড়া চোখের মধ্যেও হাসির বহিঃপ্রকাশ ফুটে ওঠে। মানুষ হাসি, আনন্দ, মজা ও খুশিতে হাসে। এবার দেখি হাসি কত ধরনের। হাসি হলো আট ধরনের—অট্টহাসি, স্মিত হাসি, কাষ্ঠহাসি, শুকনো হাসি, বাঁকা হাসি, খিলখিল হাসি, চাপা হাসি, মুচকি হাসি।
উল্লিখিত হাসির একটিও যদি আপনি আপনার ভেতরে আত্মস্থ করতে পারেন, দেখবেন জীবন কত সুন্দর। আর হাসতে পারার অন্যতম শর্ত হলো জীবনকে উপভোগ করা। জীবনটাকে উপভোগ করলে, চারপাশটাকে মুগ্ধ হয়ে দেখলে, দেখবেন আপনার ঠোঁটের কোণে সব সময় ঝুলে থাকবে নতুন চাঁদের মতো একটুকরো বাঁকা হাসি। তখন আপনিও বলবেন—হাসতে নাকি জানে না কেউ, কে বলেছে ভাই, এই শোনো না কত হাসির খবর বলে যায়।



এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।