সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Sad-Princess.jpg

আকাশে পূর্ণ তিথির চাঁদটাকে দেখিয়ে রাবেয়া তার জীবনসঙ্গী নয়নকে বলল, দেখ কী সুন্দর চাঁদ! কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রাবেয়া একা একাই বলল, এই, তুমি একটা কবিতা শুনবে? প্রতিউত্তরের তোয়াক্কা না করে বুকসেলফ থেকে সঞ্চয়িতা বের করে পড়া শুরু করল ‘সাধারণ মেয়ে’ কবিতাটির কয়েক লাইন। মন ভালো নেই

ওদিক থেকে রাজ্যভরা বিরক্তি নিয়ে নয়ন বলল, আহ, দুপুর-রাতে কী শুরু করলে; শুয়ে পড় না। মনের অজান্তেই মনটা বিষণ্ন হয়ে গেল রাবেয়ার। একরাশ মন্দ লাগা তাকে গ্রাস করে নিল। চুপচাপ এসে বিছানাকে আপন করে নিল সে।

চোখ থেকে অশ্রুকণা ঝরে পড়ছে, তা-ও নিজের অজান্তে। এভাবেই সূত্রপাত। তারপর থেকে আর তেমন আপন করে নিতে পারে না তার জীবনসঙ্গীকে। তেমন কোনো কথাবার্তা হয় না তাদের মধ্যে। যতটুকু না বললেই নয়, ততটুকু বলে। হুটহাট মন খারাপ হয়ে যায় রাবেয়ার। তার মধ্যে সন্দেহের ঘুণপোকা বাসা বাঁধে। বারবার ভাবে, তার জীবনসঙ্গী তাকে আর তেমন ভালোবাসে না। সত্যি কী তাই! হয়তো হ্যাঁ কিংবা না। এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মত হলো, তাদের দুজনের সঙ্গে কথা বলে জানা জরুরী যে, মূলত সেদিন কী ঘটেছিল। হয়তো সেদিন রাবেয়ার জীবনসঙ্গী নয়নের মনটা খারাপ ছিল। অফিসে কোনো সমস্যা হয়েছিল—যা তাকে কষ্ট দিচ্ছিল। রাবেয়াকে কষ্ট দিতে চায়নি বলে তাকে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে সে। তাই একতরফা একজনের কথা শুনে মন্তব্য না করে দুজনের উচিত দু’জনের বিষয় খুলে বলা। যদি রাবেয়া জানত নয়নের মনটা ভালো নেই, তাহলে নিশ্চয়ই সে নয়নকে ভুল বুঝত না; আবার তার মনটাও এত খারাপ হতো না, কষ্ট পেত না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিষণ্নতার শুরু হয় এই ভুল বোঝাবুঝির মধ্য দিয়ে। তাই সবার উচিত ভুল বোঝাবুঝির সময় সচেতন থাকা। শুধু নিজের দিকটা বিবেচনা না করে নিজের সঙ্গীর কথাও ভাবুন। দুজন দুজনের সমস্যাটা বোঝার চেষ্টা করুন। আর কেউ যদি এই মন ভালো নেই বা বিষণ্নতা রোগে আক্রান্ত হয়েই যান, তার কিছু উপসর্গ দেখা যাবে। যেমন * অল্পতেই রেগে যাওয়া আবার অল্পতেই খুশি হওয়া * অকারণে কান্না করা * অকারণেই হেসে ফেলা * একা একা কথা বলা * একা থাকতে পছন্দ করা
* আত্মহত্যা করার প্রবণতা জাগা
* অহেতুক সন্দেহ করা * নিজেকে একা মনে করা * শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া প্রভৃতি।
তাই কারও মধ্যে এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে যতটা সম্ভব তার প্রতি যত্নশীল হতে হবে। আর যত্নশীলতার জন্য যে কাজগুলো খুব জরুরি, তা হলো— * তাকে রাগতে দেবেন না * মন খারাপ হতে দেবেন না * হাসি-খুশি রাখার চেষ্টা করুন। তাকে বোঝান, সে মোটেই একা নয়। তার প্রতি সবাই যথেষ্ট যত্নশীল। সবাই তাকে ভীষণ পছন্দ করে। তার পছন্দের গুরুত্ব দিন। একান্ত অপছন্দনীয় হলে তত্ক্ষণাত্ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে আস্তে আস্তে বোঝান, তার কথাটা মেনে নেয়া সম্ভব নয়; বরং তার চেয়ে আপনার সিদ্ধান্তটা আরও যুক্তিপূর্ণ। * তাকে বেশিক্ষণ একা থাকতে দেয়া উচিত নয়। যদি একা থাকতে দিতেই হয় তাহলে ফোন করে নিয়মিত তার খোঁজ নিন। * জীবনকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করুন। নিজের জন্য তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠুন। * তাকে যতটা পারুন সঙ্গ দেয়ার চেষ্টা করুন।
মন হলো শরতের আকাশ। তাই বোঝা যায় না কখন মেঘ, কখন রোদ্দুর। তাই মনকে নিজের আয়ত্তে রাখতে হলে তাকে নিজের বশে রাখুন। ভালো-মন্দের বিচার করে তারপর সিদ্ধান্ত নিন কী করবেন আর না করবেন! হুটহাট মন খারাপ করে নিজেকে বিষণ্ন রাখবেন না। মন খুলে হাসুন, সবার সঙ্গে কথা বলুন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে যান। পারলে প্রাতঃভ্রমণের অভ্যাস গড়ে তুলুন। দেখবেন সুস্থ দেহে সুন্দর মন এমনিই ধরা দেবে। আর মনে রাখবেন, মনকে আপনি যেমন কমান্ড দেবেন, তেমনই সে করবে। তাই অহেতুক মন খারাপ করে থাকবেন না। মনকে যতটা পারেন প্রফুল্ল রাখুন। সবার ওপর আস্থা রাখুন। কখনও নিজেকে একা ও অসহায় ভাববেন না। সবাইকে ভালোবাসুন, দেখবেন সবাই আপনাকেও ভালোবাসবে। কখনও নিজেকে বড় ভাববেন না। অন্যের সিদ্ধান্ত মেনে নিন। কোনো দ্বিমত দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে রিঅ্যাক্ট না করে পরে বুঝিয়ে বলুন।
মন তো খারাপ হতেই পারে, হতেই পারে ভুল বোঝাবুঝি; তাই একটু দ্বন্দ্ব দেখা দিলেই সমস্যা জিইয়ে না রেখে সমস্যার সমাধান করে নিন। সমস্যা বাড়ালে দূরত্ব বাড়তে থাকবে; তাই সমস্যা দ্রুত সমাধান করে নিন।
একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন। কারও সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন না। মনের ওপর জোর খাটাবেন না। রিল্যাক্স মুডে থাকুন। দেখবেন, মনের অজান্তে মন ভালো হয়ে যাবে। তাই মন খারাপ করে বসে না থেকে মন খারাপ হলেই তাড়াতাড়ি মন ভালো করে নিন। মন ভালো হওয়ার জন্য কারও কাছে একটু ছোট হতে হলে হন না। মনটা তো ভালো থাকবে আর মন খারাপকে পুষে রাখলে এটা বিষণ্নতা রোগের আকার ধারণ করবে। তাই আর নয় মন খারাপ—মন ভালো হোক সবার।





এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।