সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

Carrot-for-Health.jpg

পুষ্টিতথ্য পুষ্টিকর সবজি গাজরের কিছু ব্যতিক্রম ধর্মী উপকারিতা

আমেরিকান কৃষি বিভাগের মতে মধ্যম আকৃতির একটি গাজর বা আধা কাপ গাজর কুচি হচ্ছে এক পরিবেশন পরিমান আর এই এক পরিবেশন গাজরে রয়েছে ২৫ ক্যালরি, ৬ গ্রাম শর্করা, ৩ গ্রাম সুগার এবং ১ গ্রাম প্রোটিন।

গাজরের মত একটি পুষ্টিকর সবজির রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুন। সেই সাথে রয়েছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য উপকারিতাও। আজ আপনাদের সেই উপকারিতা গুলো জানাচ্ছি এবং আমি নিশ্চিত যে এগুলো জানার পর আপনাদের খাবার তালিকায় অবশ্যই নিয়মিতভাবে গাজর থাকবে।

গাজর হচ্ছে Apiaceae উদ্ভিদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত এবং এর নামটি এসেছে karaton নামক গ্রিক শব্দ থেকে। আমেরিকান কৃষি বিভাগের মতে মধ্যম আকৃতির একটি গাজর বা আধা কাপ গাজর কুচি হচ্ছে এক পরিবেশন পরিমান আর এই এক পরিবেশন গাজরে রয়েছে ২৫ ক্যালরি, ৬ গ্রাম শর্করা, ৩ গ্রাম সুগার এবং ১ গ্রাম প্রোটিন।

গাজরের পুষ্টিগুন:
গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, কে, খাদ্য আঁশ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট, ম্যাঙ্গানিজ এবং জিংক। এছাড়া গাজরে আরো রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন এ উৎপাদক বিটা ক্যারোটিন যার উপস্থিতির কারনে গাজরের উজ্জ্বল কমলা রঙ হয়ে থাকে।

চলুন এবার জানা যাক গাজরের উপকারিতা গুলো সম্পর্কে:

  • ওজন কমায়: গাজর হচ্ছে কম ক্যালরি যুক্ত ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ সবজি যা কাঁচা খাওয়া যায়। কেটে টুকরো করে এমনি বা সালাদ তৈরি করে নাস্তা হিসেবে খাওয়া যায়। এটি খেলে বেশ কিছুক্ষন পেট ভরা থাকে বলে ক্যালরিবহুল অন্য খাবার খেতে হয়না। যার ফলে তা ওজন কমাতে সহায়ক হয়।
  • দাঁত পরিষ্কারে: তাজা ও কচকচে গাজর খেলে তা দাঁতকে সুস্থ ও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে: ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে গাজরের জুস হচ্ছে একটি উত্তম খাবার। এটি সুস্থ ত্বক পেতেও সাহায্য করে।
  • চোখের সুস্থতার জন্য: সুস্থ চোখের জন্য গাজরের চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না। গাজরে থাকা ভিটামিন এ হচ্ছে মূল উপাদান যা চোখের সুস্থতার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। আর গাজরে এই ভিটামিন এ রয়েছে অনেক বেশি পরিমানে।
  • ত্বকের সুস্থতা: বিটা ক্যারোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর একটি সমৃদ্ধ উৎস হচ্ছে গাজর যা ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের ক্ষেত্রে গাজরের অন্যান্য উপকারিতার মাঝে বলিরেখা প্রতিরোধ করা অন্যতম।
  • রক্তের অম্লতার ভারসাম্য বজায় রাখতে: গাজর আমাদের দেহের রক্তকে বিশুদ্ধ করার পাশাপাশি গাজরের মাঝে থাকা ক্ষারধর্মী উপাদান এর অম্লতার ভারসাম্যতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • অ্যান্টি অ্যাজিং: গাজরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে নরম রাখতে এবং ত্বকের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই এটা তারুণ্য ধরে রাখতে সক্ষম একটি খাবার।
  • পচন রোধ করে: গাজর এর জীবানুনাশক গুনাগুনের জন্য বিখ্যাত। তাই এটি পচন রোধ করতেও সাহায্য করে।
  • অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের বিরুদ্ধে লড়ে: গাজরে থাকা পটাশিয়াম রক্তের প্রবাহ ঠিক রাখতে সাহায্য করে যার ফলে রক্ত ঠিক ভাবে প্রবাহিত হতে পারে এবং রক্ত জমাট বেধে অ্যাথেরোসক্লেরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: এই সবজি রক্তের প্রবাহ ঠিক রাখতে সাহায্য করে যেমন অ্যাথেরোসক্লেরোসিস প্রতিরোধ করে সেই সাথে উচ্চ রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
  • অ্যান্টি কার্সিনোজেন: গাজরে falcarinol নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার এবং ফুস্ফুসের ক্যান্সারের প্রি-ক্যান্সার সেল দূর করতে সাহায্য করে।
  • হাড়ের সুস্থতায়: ক্যালসিয়ামের একটি ভালো উৎস হওয়ার কারনে গাজর হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এছাড়া লিগামেন্টের সুস্থতায়ও এর ভালো ভূমিকা রয়েছে।
  • হৃদপিণ্ডের সুস্থতায়: গাজরে রয়েছে আলফা ক্যারোটিন, বিটা ক্যারোটিন এবং লুটেন যা নিয়মিত গাজর খেলে সেগুলো হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
  • গলাভাঙ্গা প্রতিকারে: গাজরের জুস গলার ব্যাথায় বেশ উপকারি এবং গলায় কফ জমে থাকা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • ডায়াবেটিসের জন্য উপকারি: এই সব্জিটিতে থাকা ক্যারোটিনোয়েড ইন্সুলিনের প্রতিরোধে সাহায্য করে যার ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • দেহের বিষাক্ততা দূর করতে: গাজরের জুসে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ থাকার কারনে এটি একটি শক্তিশালী বিষাক্ততা দূর করার উপাদান হিসেবে কাজ করে।
  • হজমের জন্য উপকারি: গাজরে প্রচুর খাদ্য আঁশ থাকে বলে তা দেহের আভ্যন্তরীণ অন্ত্রের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে এবং হজমক্রিয়াকে উন্নত করে।
  • রাতের দৃষ্টি উন্নত করে: গাজর চোখের জন্য খুবই উপকারি। রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। যা আলোক সংবেদক রডোপসিনের সাহায্য নিয়ে রাতের দৃষ্টিকে উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • উর্বরতা বাড়ায়: গাজর যখন নিয়মিত খাওয়া হয় তখন তা নারী ও পুরুষের প্রজননের উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • চুল পরা কমায়: এই সবজিটি ভিটামিন ই এবং সি তে ভরপুর। তাই এটি মাথার তালুর রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে চুল পরা কমাতেও সাহায্য করে।
  • প্রদাহ বিরোধী গুনাগুন: প্রতিদিনের খাবার তালিকায় যদি কিছুটা গাজর কুচি বা টুকরো রাখা যায় তাহলে তা প্রদাহের কারনে সৃষ্ট জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।
  • প্রতিরোধ ক্ষমতা বর্ধক: গাজরে ভিটামিন সি এর উপস্থিতি এবং অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুনাগুনের জন্য এটি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।
  • মায়ের বুকের দুধ বাড়াতে: Galactagogue নামক মায়ের দুধ উৎপাদক উপাদান গাজরে বিদ্যমান থাকার কারনে গাজর খেলে মায়েদের বুকের দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
  • গর্ভাবস্থার জন্য ভালো: অনেক বেশি ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ গাজর ভ্রূণের সুস্থতার জন্য এবং বৃদ্ধি জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
  • ব্রনের বিরুদ্ধে কাজ করে: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ক্যারোটিনয়েড এবং বিভিন্ন ভিটামিন নিয়মিত খেলে এবং ত্বকে ব্যবহার করলে মুখের ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।

 -
লেখক: জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ; এক্স ডায়েটিশিয়ান,পারসোনা হেল্‌থ; খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান(স্নাতকোত্তর)(এমপিএইচ); মেলাক্কা সিটি, মালয়েশিয়া।


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।

গাজর, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, সুষম, খাবার, সবজি, উপকারিতা, আমেরিকান, কৃষি-বিভাগ, গ্রিক-শব্দ, ক্যালরি, শর্করা, সুগার, প্রোটিন, পুষ্টিগুন