সংস্করণ: ২.০১

স্বত্ত্ব ২০১৪ - ২০১৭ কালার টকিঙ লিমিটেড

বাচ্চাকে কেন শাস্তি দিবেন না?

কাঁচের একটা গ্লাস ভেঙ্গেছে বলে আপনার সন্তানকে শাস্তি দিচ্ছেন? তবে জেনে নিন আপনি কত বড় ভুল করছেন!

বাচ্চাকে শাস্তি দেয়া: বার কয়েক বাচ্চা জব্দ-জিদ করেছে, কথা শোনেনি তো বাচ্চাকে শাস্তি দিচ্ছেন! থাপ্পর দেয়া একটি অতি সাধারণত বিষয়। স্কুলে শিক্ষকদের কথা শোনেনি, পড়া হয়নি বলে বেত্রাঘাত করা হচ্ছে, ভয় দেখানো ও মানসিকভাবে শাস্তি দেয়া হচ্ছে! তবে আজকাল স্কুলে শাস্তি দেয়ার প্রবণতা অনেক কমে গেছে।

আচ্ছা, বাচ্চাকে শুধরানোর জন্য সাজা দেয়াই কি একমাত্র উপায়? এটি নিজেকেই একবার জিজ্ঞেস করবেন।

বাচ্চাকে শাস্তি দিলে সে জেদী হতে পারে। আপনার একটা থাপ্পরের কারণেই সারাজীবন বাচ্চাটা আপনার বিরুদ্ধে চলতে পারে!

বিদ্বেষ জন্মানো: এই পার্থিব জগতে কেউই ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ভুলের উর্দ্ধে নয়। সুতরাং বাচ্চাদের ভুল হবে না কেন? তারাতো এখনও সবকিছুই বুঝেই ওঠেনি। এটুকু না বুঝেই যদি আপনি বাচ্চাকে শাস্তি দেন তবে আপনার প্রতি বাচ্চার বিদ্বেষভাবের জন্ম হবে।

ঘৃণা: যদি আপনি বাচ্চাকে সকল কথা মনে রাখতে বাধ্য করতে যান অথবা পড়া শেখানোর জন্য শাস্তি দিতে থাকেন তবে আপনাকে বাচ্চাটি ঘৃণা করতে থাকবে।

ভুলের জন্য প্রস্তুত থাকা: প্রতিটি পাঠ্যবস্তু, কথাবার্তা বাচ্চাকে শিক্ষা দিতে গেলে, দীর্ঘ সময় কঠিন বিষয় পড়াতে থাকলে বাচ্চা জ্বালাতন শুরু করে থাকে। ফলে ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। পাশাপাশি শাস্তি দিলে এক সময় শাস্তির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে যাবে। তখন আপনার শাস্তিকে অগ্রাহ্য করে এক ধরনের মজা হিসেবে নিতে থাকবে!

ভয় জন্মানো: এই বিষয়টি সবথেকে ভয়াবহ হতে পারে! যদি একবার বাচ্চার মনে ভয় প্রবেশ করে তো সেই ভয় জীবনভর তাকে তাড়া করবে! ফলে বাচ্চার নিজস্ব চিন্তা-চেতনার অভাব হবে।

নিকৃষ্ট ভাবনার উদ্রেক: কয়েকবার শাস্তি দিলে বাচ্চার মনে নিকৃষ্ট ভাবনার জন্ম হবে। শাস্তি দিলে বাচ্চার আত্মবিশ্বাস কম হয় এবং নিজে থেকে কিছু বোঝে না বা বুঝতেও চায় না।

উপর্যুক্ত কারণে ভুল করলে বাচ্চাকে শাস্তি দিবেন না। তাকে বুঝিয়ে দিবেন। তার ভুল শুধরিয়ে দিবেন। মনে রাখা উচিৎ আমি, আপনি ও আপনারাও সবকিছুই জানি না। সুতরাং বাচ্চার ক্ষেত্রে শাস্তি কেন?


এখানে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার স্বত্ত্ব ও দায় লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। আমাদের সম্পাদনা পরিষদ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে এখানে যেন নির্ভুল, মৌলিক এবং গ্রহণযোগ্য বিষয়াদি প্রকাশিত হয়। তারপরও সার্বিক চর্চার উন্নয়নে আপনাদের সহযোগীতা একান্ত কাম্য। যদি কোনো নকল লেখা দেখে থাকেন অথবা কোনো বিষয় আপনার কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়ে থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের কাছে বিস্তারিত লিখুন।